October 17, 2026, 12:43 pm

রিজওয়ানা হাসানের বোর্ড অবৈধ- হাইকোর্টের রায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আইনি লড়াইয়ে জয়ী প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. নাজিম উদ্দিন

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, October 17, 2026
  • 5 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একক কর্তৃত্ব ও শাসনভার ফিরে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূল ট্রাস্টি বোর্ড। হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বাধীন পর্ষদকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আইনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ট্রাস্টের মূল গঠনতন্ত্র ও ১৯৭২ সালের ট্রাস্ট দলিলের আইনি বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি পর্যালোচনা করায় আদালতের রায় শতভাগ ডা. মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদের পক্ষের যুক্তিকেই সমর্থন করেছে।
মামলার নথি ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রয়াণের পর ১৯৭২ সালের মূল রেজিস্টার্ড ট্রাস্ট দলিলকে পাশ কাটিয়ে ২০০৮ ও ২০১১ সালে কিছু বিতর্কিত ‘সম্পূরক দলিল’ (ঝঁঢ়ঢ়ষবসবহঃধৎু উববফং) তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে এসব সম্পূরক দলিলের জোরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, ডা. আব্দুল কাদের, সন্ধ্যা রায় ও আবুল কালাম আজাদের সমন্বয়ে একটি সমান্তরাল ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়। গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে ক্ষমতা দখলের এই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ।
ডা. নাজিম উদ্দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উচ্চ আদালত তৎকালীন বিতর্কিত ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর একটি স্থগিতাদেশ ও অন্তর্বর্তীকালীন রায় দেন। এই আদেশের পরপরই সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ক্যাম্পাসে নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ গত ১১ আগস্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মূল দলিল পরিবর্তন করে তৈরি করা সম্পূরক দলিলগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ফলে রিজওয়ানা হাসান পক্ষের অবৈধ পর্ষদ বাতিল হয়ে একমাত্র বৈধ পরিচালনা পর্ষদ হিসেবে স্বীকৃতি পায় ডা. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বোর্ড।
উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে রিজওয়ানা হাসান পক্ষের অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদের গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত আইনত বাতিল হয়ে গেছে। একই সাথে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং এর অধীনস্থ সাভার ও ঢাকার হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ওপর রিজওয়ানা হাসান গ্রুপের যেকোনো ধরণের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ট্রাস্টের মূল দলিল লঙ্ঘন করা যায় না—এই রায়ের মাধ্যমে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো। ডা. মো. নাজিম উদ্দিনের বিজয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মূল ধারা ফিরে এলো এবং গণস্বাস্থ্যের জনমুখী চিকিৎসাসেবা ও ট্রাস্টের সম্পত্তি আইনি সুরক্ষা পেল।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর