October 15, 2026, 1:35 pm

বিমান, ডাক ও রেলপথে চোরাচালানের নতুন কৌশল: ভায়াগ্রা-নিষিদ্ধ ক্রিমসহ ১ কোটি টাকার পণ্য জব্দ

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, October 15, 2026
  • 21 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিমানবন্দর, ডাক বিভাগ ও রেলপথ ব্যবহার করে চোরাচালানের নতুন কৌশল শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মদজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সংবেদনশীল ওষুধ আনা এবং বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রামে পণ্য পাঠানোর কৌশলও সামনে এসেছে। ১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের (ET680) এক যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বা কোল্ড চেইন অনুসরণ না করে ইনসুলিন পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আকাশপথে দেশে আসার পর পণ্যগুলো বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র এবং কমলাপুরের আরএমএস সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় বিমানবন্দর, ডাক বিভাগ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সমন্বিত কাস্টমস নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ২৮৮ কার্টন সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম ও ১৭ লিটার মদ জব্দ করা হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোনের মধ্যে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ এফই মডেলের ফোনও ছিল।
১৪ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ারসহ বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ ও পরিত্যক্ত কার্টন থেকে আরও ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি প্রসাধনসামগ্রী এবং ১৮ দশমিক ১৮ কেজি গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়।
মোট জব্দ করা পণ্য:
দুই দিনের অভিযানে মোট ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, কমলাপুর থেকে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম, বিমানবন্দর থেকে ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৬৮ কেজি অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী, ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ ৫৫ দশমিক ৮ কেজি ওষুধ, ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ৩২টি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১৭ লিটার মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এ অভিযানগুলো শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধের পাশাপাশি ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রীর অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলপথে নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর