October 15, 2026, 12:55 pm

সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোক, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, October 15, 2026
  • 39 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অব.) খন্দকার গোলাম ফারুক এবং তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে থাকা এক কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হবে।
এ ছাড়া খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের যৌথ নামে থাকা এক কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং দুটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের জমি ও প্লট রয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংগৃহীত নথিপত্র, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য এবং আয়কর নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে দায়-দেনা সমন্বয়ের পর নিট সম্পদের মূল্য পাওয়া যায় তিন কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয় চার কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ দুই কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ফলে গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তাঁর অর্জিত সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেশি বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, অতিরিক্ত এই সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
অন্যদিকে, খন্দকার গোলাম ফারুকের স্ত্রী শারমিন আক্তার খান একজন গৃহিণী। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য পাওয়া গেছে তিন কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তাঁর অর্জিত সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি পাঁচ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক আদালতকে জানায়, অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে গোপন বা বিলুপ্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ কারণে অভিযুক্তদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়। দুদকের ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধের আদেশ দেন। তবে সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অনুসন্ধান, তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর