নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ইউনিট-২-এ লাগা আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সাংসদ বলেছেন, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শেষ হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টঙ্গীর ইনচার্জ শাহীন আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
শাহীন আলম আরো বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গী শিল্প এলাকায় অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কম্পানি লিমিটেডের দুই নম্বর ইউনিটে আগুন লাগে। প্রথম দিকে আগুন দেখে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আগুনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে টঙ্গী, সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও ঢাকাসহ ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি ইউনিট বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণে ঘটনাস্থল ঘিরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার গণপরিবহন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে যায়। আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী সহ ৫ জন ধুঁয়ায় অসুস্থ হয়। বেলা ২টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, সাত তলায় চতুর্থ ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে।
ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধে আগুন লাগার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরিভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। আমাদের মোট ২১টি ইউনিটের আপ্রাণ চেষ্টায় বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি তিনি।
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও আগুনের তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি তিনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে গঠন করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কম্পানি লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শর্ট সার্কিট থেকে সূত্রপাত বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ এম মঞ্জরুল করিম রনি। টঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি একথা বলেন।
রনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি ও আমাদের নেতাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি। আমাদের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই আছেন, কাজ করছেন। গাজীপুরে পর্যাপ্ত পানির উৎস তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা পুকুর, জলাশয় ও খালবিল পরিষ্কার করছি। কোথাও আগুন লাগলে যেন পানির অভাব না হয়, সেজন্য পানির উৎসগুলো তৈরি করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রনি বলেন, শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এসময় তার সঙ্গে গাজীপুর গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক প্রথম যুগ্ম আহবায়ক এম রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাসক বসির উদ্দিন ও গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সাথীসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।