October 14, 2026, 6:09 pm

প্রেমের টানে জামালপুরে ফিনল্যান্ডের যুবক, শুরু করেছেন ‘নতুন সংসার’

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, October 14, 2026
  • 31 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: প্রেমের টানে সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এসে বিয়ে করেছেন সিমোলা মিকা (৩৮) নামের এক যুবক। তিনি খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর নিজের নাম রেখেছেন মিকাইল। গত ২ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের স্থানীয় এক চা বিক্রেতার মেয়ে শান্তিনা জাহান সিমির (২৮) সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মোবাইলে পরিচয় হয় দুজনের। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের টানে ফিনল্যান্ড থেকে ছুটে আসেন সিমোলা। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিকাইল নামে বিয়ে করেন সিমিকে। কনের পরিবার বলছে, দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়েছে। এরপর সংসার শুরু করেছেন তারা।
প্রায় দুই সপ্তাহ স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মিকাইল-সিমি বসবাস করছেন। সিমি সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। গত রবিবার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকে ফিনল্যান্ড থেকে আসা বরকে দেখতে সিমিদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় সিমির প্রথম স্বামী মারা যান। পরে তিন বছর বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেই সন্তানের বয়স এখন পাঁচ বছর। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে বসবাসরত সিমির এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সিমোলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি দুই পরিবারকে জানালে সম্মতি দেয়। এরপর বাংলাদেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নেন সিমোলা।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ফিনল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন সিমোলা। ২ অক্টোবর বাংলাদেশে এসে স্বেচ্ছায় খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে মিকাইল রাখেন সিমোলা। এরপরে কাজির মাধ্যমে ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে সিমির সঙ্গে বিয়ে হয়। এরপর থেকে দৌলতপুর গ্রামে থাকছেন দুজনে।
কনের পরিবার বলছে, আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইল ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন। সেখানে গিয়ে সিমি ও তার সন্তানের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের ফিনল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে চান তারা।
সিমি বলেন, ‘ফিনল্যান্ডে আমার ফুফা, ফুফু ও তাদের মেয়ে থাকেন। তাদের মাধ্যমে আমাদের প্রথম পরিচয়। ওইখান থেকে সে (মিকাইল) আমাকে পছন্দ করে। এরপর ফোনে কথাবার্তা শুরু হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আলোচনা হয়। সবাই রাজি হলে বৈধভাবে বিয়ের জন্য সে সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে। ধর্মের বিষয়টি নিয়ে আগেই কথা হয়েছিল। ফলে সে বিয়ের আগে সব আইন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এতে সে-ও অনেক খুশি।’
কনের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, দুজনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে। দুজন নতুন জীবন শুরু করেছে। তারা এখন অনেক খুশি। বাবা হিসেবে তিনি অনেক খুশি। মিকাইল তাদের জানিয়েছে, বাংলাদেশে এসে তিনি খুশি হয়েছেন। তার এখানে ভালো লাগছে।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‌‘একজন বিদেশি নাগরিকের ওই গ্রামে এসে বিয়ে করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আমাদের।’

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর