October 12, 2026, 6:35 pm

নারীস্বাস্থ্য উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

Reporter Name
  • আপডেট Monday, October 12, 2026
  • 34 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নারী স্বাস্থ্যখাতে টেকসই বিনিয়োগে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জুবাইদা রহমান। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় নয়। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ মানে মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং আমাদের জাতিগুলোর ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ। একটি সুস্থ ও অধিক সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এই বিশ্বাস।’
‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’
বাংলাদেশের সরকারের নারী স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকার নারীর স্বাস্থ্যে নতুন প্রজন্মের রূপান্তরমূলক বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই উদ্যোগ শুধু মাতৃস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি মেয়েশিশু যেন শিক্ষিত, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ক্ষমতায়িত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ : আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেন্স হেলথ বিয়ন্ড এইড’ (সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে নারীর স্বাস্থ্যে নতুন অর্থায়নের পথ উন্মোচন—এখনই সময়) শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সেশনে বাংলাদেশের নারী স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নারীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ সুগম করছে। কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের মধ্যে প্রাণঘাতী ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান বোঝা মোকাবিলায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
‘এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয় বরং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী লাখ লাখ নারীর জীবন চক্র জুড়ে নেওয়া পরস্পর-সম্পর্কিত বিনিয়োগ। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা বিশেষভাবে কিশোরী ও নারীবান্ধব হবে, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেবে, মর্যাদার প্রতি সম্মান জানাবে এবং তাদের বাড়ির কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে।’
নারী ক্ষমতায়নে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকারের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।’নারী স্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস : বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর