গাজীপুর প্রতিনিধি:: শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করার লক্ষ্যে গাজীপুর সদর উপজেলায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। উপজেলার ২৮টি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। পূজামণ্ডপে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলা প্রশাসন। আজ সোমবার গাজীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন এসব কথা বলেন।
সভায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা পালন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ আলোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল হাসান সৌরভ, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল রাশেদী, সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার, পিরুজালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন জালাল, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দুলাল, বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানসহ পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লী, সদস্যসচিব আবু বকর সিদ্দিক।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এবার গাজীপুর সদর উপজেলায় মোট ২৮টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা পালিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নজরদারি করবেন, যাতে সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিশেষ করে পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের নির্বিঘ্নে চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া কোনো পূজামণ্ডপে অগ্নিকাণ্ড বা তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। ধর্মীয় উৎসব যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে ব্যাহত না হয় সে জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে জানান গাজীপুর সদর উপজেলা প্রশাসন।