নেত্রকোনা প্রতিনিধি:: স্বামী মারা যাওয়ার সময় আমার সন্তানটা ছিল মাত্র দুই বছরের। স্বামীকে হারিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে পড়ে যাই। এতদিন শ্বশুরের আয়ে কোনোভাবে সংসার চলছিল। কিন্তু ছয় মাস আগে শ্বশুরও মারা যাওয়ার পর আমাদের আর কোনো অবলম্বন থাকল না।
সংসার আর সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে ব্যাচেলর বাসায় রান্নার কাজ শুরু করি। যা আয় করি, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। অনেক সময় নিজের কষ্টের কথা ভুলে শুধু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আজ একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। মেশিনটা আমার কাছে নতুন করে বাঁচার একটা সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, আমার সন্তানকে আরেকটু ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। এই সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। কথাগুলো বলছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পাওয়া নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মাহামুদা আক্তার। একই অনুষ্ঠানে তার মতো ২০ জন অসহায় অসচ্ছল নারী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের আর উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুল, ধর্মপাশা প্রেসক্লাব সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, অখিল চন্দ্র পাল, মো. নুরুল আমিন, ফেরদৌস আহম্মদ, মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, সেলাই মেশিন দেওয়ার পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই-যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, স্বাবলম্বী হতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাদের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। আমরা চাই, এই মেশিন একজন নারীর হাতে শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে না থাকুক; এটি যেন তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি পথ হয়ে ওঠে।