নিজস্ব প্রতিবেদক:: সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে আপত্তিকর এবং বিতর্কিত মন্তব্যের অডিও রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে পুলিশের একজন উপকমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওসি রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে তাঁকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওসি রাকিবুলকে প্রত্যাহারের পর বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে ডিবির একটি সূত্র জানায়। তবে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ওসি রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘রাকিবুল আমাদের কাছে নেই।’ তিনি বলেন, ডিএমপি কমিশনার একটি কমিটি করে দিয়েছেন। তাঁরা তদন্ত করে দেখবেন।
ডিএমপির একটি সূত্র আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবুল হাসান দাবি করেছেন, ছড়িয়ে পড়া অডিও তাঁর। তবে সেখানে তাঁর বন্ধুরা ছিল। তাঁকে ট্র্যাপে ফেলে এসব বলানো হয়েছে। অডিওটির সত্যতা এবং কণ্ঠস্বর যাচাই করতে সেটি সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নেই।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ওসি রাকিবুল হাসান পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ওসি পদায়ন, বদলিতে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগও করা হয়। অডিওর একটি অংশে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল।’
পুলিশ সূত্র জানায়, রাকিবুল হাসানের গ্রামের বাড়ি মাগুরায়। ২০০৭ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পুলিশে যোগ দেন তিনি। চাকরিজীবনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন।