September 6, 2026, 10:31 pm

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাদ্যপণ্য উৎপাদন টঙ্গীতে হক ফুড কারখানাকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, September 6, 2026
  • 24 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ, খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের যথাযথ সংরক্ষণ ও লেবেলিং না করা, তেলাপোকা-মাছির উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারায় গাজীপুরের টঙ্গীর হক ফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই, গাজীপুরের সমন্বয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। পরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ও ৩৮ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থদণ্ড করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অভিযানকালে কারখানার অভ্যন্তরে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান কর্মকর্তারা। খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফুড অ্যাডিটিভ বা খাদ্য সংযোজন দ্রব্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। এসব উপকরণের লেবেলিংয়েও পাওয়া যায় ত্রুটি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে কারখানার বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকা ও মাছির উপস্থিতি দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের স্থানে এ ধরনের পোকামাকড়ের উপস্থিতি থাকায় সেখানে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা ও মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু পরিবেশগত অনিয়মই নয়, খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রেও ঘাটতি পাওয়া যায়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের সেলফ লাইফ স্টাডি এবং প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেনি। খাদ্য সংযোজন দ্রব্য নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে-এমন যথাযথ প্রমাণক বা রেকর্ডও দেখাতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া খাদ্যপণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়ের চালান, রসিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে। ফলে শুধু কারখানার পরিচ্ছন্নতা নয়, খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদুর রহমান রুবেলের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাজীপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া, বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক আফসানা ইসলাম কেয়াসহ আনসার ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় পাওয়া এসব অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের পরিপন্থী। খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা নয়,ভোক্তার জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এদিকে জরিমানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না হলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গাজীপুরের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর