September 6, 2026, 9:41 pm

‘কবিরাজ’ সেজে বাসায় গিয়ে স্বর্ণ লুট, গ্রেপ্তার ২

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, September 6, 2026
  • 23 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ফেসবুকে অসুখ সারানোর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন। এরপর ফোনে নানা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস। চিকিৎসা দিতে এক পর্যায়ে রোগীর বাসায় হাজির ‘কবিরাজ’। ঝাড়-ফুঁক, আচার-অনুষ্ঠান আর নানা কৌশলে বিশ্বাস অর্জন করা হতো। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ঘরের সোনা-গয়না এক জায়গায় করতে বলা হতো। সেই সুযোগেই স্বর্ণ-গহনা নিয়ে গা-ঢাকা দিত চক্রটি।
এভাবে প্রতারণার অভিযোগে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের কাছ থেকে ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ফকিরটিলা এলাকার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) ও মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক চক্রটি ফেসবুক পেজকে নিজেদের প্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। বিভিন্ন রোগ ও ব্যক্তিগত সমস্যার ‘চিকিৎসা’র কথা বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হতো। এরপর কথিত কবিরাজরা রোগীর বাসায় গিয়ে ঝাড়-ফুঁক ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের আস্থা অর্জন করত। বিশ্বাস তৈরির পর শুরু হতো প্রতারণার মূল পর্ব। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার এক জায়গায় করতে বলা হতো। এরপর সেগুলো রুমালে মুড়িয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হতো। পানি ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছিটানোর মতো নানা কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখা হতো বাসার লোকজনকে। আর সেই সুযোগে হাতবদল হয়ে যেত আসল স্বর্ণ। আর রুমালের ভিতরে ইট র্কিবা পাথরের টুকরা ঢুকিয়ে রেখে দিত। ভুক্তভোগী বুঝে ওঠার আগেই কথিত চিকিৎসকরা সটকে পড়ত। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে রাজধানীর শাহজাহানপুরের এক ব্যক্তি থানায় মামলা করেন।
গত ২ জুলাই শাহজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি। তদন্তে নেমে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রতারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক পেজের তথ্য খতিয়ে দেখে সিআইডি। ওই পেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য পেজ ও ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। সেই সূত্র ধরেই ছাতকের ফকিরটিলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জিয়াসমিনের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গয়নার মোট ওজন ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম। সিআইডির হিসাবে এর আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সিআইডি কর্মকর্তা ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আত্মসাৎ করা বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধারে কাজ চলছে। একই সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে চক্রটি আরও কতজনকে টার্গেট করেছিল এবং তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত—সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর