August 27, 2026, 2:13 pm

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, August 27, 2026
  • 11 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা ১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র, ২৭ আগস্ট ২০২৬-১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের অনন্য এই স্রষ্টা।  শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সাম্য ও মানবমুক্তির চেতনায় নজরুলের কবিতা ও গান আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর কবিতা ও গান ছিল বাঙালির প্রেরণার অন্যতম উৎস। অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনার বিকাশেও তাঁর সাহিত্যকর্মের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, গায়ক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্রকার। হামদ, নাত, গজল, শ্যামাসংগীতসহ বাংলা সংগীতের বিভিন্ন ধারায় তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিণী ও বিপুলসংখ্যক গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে। জীবনের সেই সংগ্রামী অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্য ও সংগীতসৃষ্টিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনকাল ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত—প্রায় ২৩ বছর। এই অল্প সময়েই কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর লেখায় প্রেম ও সৌন্দর্যের পাশাপাশি ফুটে উঠেছে শোষিত মানুষের মুক্তি, অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন নজরুল। পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল সরব। শিল্পী ও সংগ্রামী—এই দুই সত্তা তাঁর সৃষ্টিতে একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর সেই চেতনারই প্রতীক হয়ে আছে—‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।
স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গেও নজরুলের সম্পর্ক গভীর। ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয় এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করে।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং একই বছর তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। স্মারক বক্তৃতা করবেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।
এদিকে, নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
নজরুল তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা রেখে গেছেন, ৫০ বছর পরও তা বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতীয় জীবনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর