August 24, 2026, 1:03 pm

আজ ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, লক্ষ্য কী?

Reporter Name
  • আপডেট Monday, August 24, 2026
  • 14 জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির আজ সোমবার তেহরান সফর করবেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতেই তার এই সফর বলে রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাঘাই বলেন, আসিম মুনির একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। এই সফরের লক্ষ্য ইরান ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করা এবং অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা। সফরকালে আসিম মুনির ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করবেন বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই।
যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির সংকটে থাকা অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। এর জবাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আসিম মুনিরের এই সফরের খবর পাওয়া গেল।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা হবে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’।
ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা অনুমোদনহীন যেকোনো তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে পাকিস্তান।
যুদ্ধ শুরুর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার ফলে ১৭ জুন জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ওই সমঝোতা স্মারকে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়। তবে সম্প্রতি ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এতে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। দুই পক্ষের সংঘাত কিছুদিন বন্ধ থাকলেও হরমুজে অননুমোদিত জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সিডিএফ মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি একাধিকবার ইরান সফর করেছেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর