August 18, 2026, 11:43 am

উত্তরায় ফিলিং স্টেশনে ডাকাতির ঘটনায় ৫ জন গ্রেফতার; অস্ত্র, গুলি ও নগদ ১২ লাখ টাকা উদ্ধার

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, August 18, 2026
  • 10 জন দেখেছে

এস.এম বিজয় চৌধুরী, উত্তরা প্রতিনিধি:: রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগের যৌথ দল। অভিযানে তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, র‌্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, পোশাক, ওয়াকিটকি, হাতকড়াসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।
পুলিশ জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরার ডিএল ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিমসহ চার কর্মকর্তা প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ক্রাউন প্লাজার বিপরীত পাশে বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা একদল ডাকাত তাদের পথরোধ করে। এ সময় ডাকাতরা গাড়িটি ঘিরে ফেলে অস্ত্র ও চাপাতি দেখিয়ে কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে সঙ্গে থাকা পুরো টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ইলিয়াসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব লেখা তিনটি ভেস্ট, দুটি ক্যাপ, দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, চারটি ভুয়া পরিচয়পত্র, তিনটি ওয়াকিটকি, চার জোড়া হাতকড়া, দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এরপর রাজধানীর মাতুয়াইল থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিউলের বাসা থেকে ডাকাতির তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। মিন্টুর বাসা থেকে র‌্যাব লেখা চারটি ভেস্ট, ভুয়া নম্বর প্লেট, চারটি ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, তিন জোড়া হাতকড়া, দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর বাড়ৈকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে লুণ্ঠিত আরও নয় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রাখত। র‌্যাবের ভুয়া পোশাক, পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা অপরাধ সংঘটন করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, ফিলিং স্টেশনের বিপুল অর্থ ব্যাংকে নেওয়ার তথ্য আগে থেকেই ডাকাত চক্রের কাছে ছিল। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে লুণ্ঠিত অর্থের বাকি অংশ উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর