শেখ কামরুল হাসান সাহা :: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক মোঃ শরীফ ওমর টুটুলকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাছা থানায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আহত সাংবাদিক মোঃ শরীফ ওমর টুটুল ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল থেকে গাছা থানার ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানা থেকে জুট বের করা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলসহ কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান।
অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করার সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ১ নম্বর আসামি হামিদ মন্ডলের নির্দেশে ৩ নম্বর আসামি সোহেল ধারালো রামদা দিয়ে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২ নম্বর আসামি ইসমাইল হোসেন লোহার রড দিয়ে সাংবাদিকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন। ৪ নম্বর আসামি আমজাদ হোসেন গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করে সাংবাদিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত Samsung A07 অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত সাংবাদিকের চিৎকারে আশপাশের সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে গাছা থানা ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামিদ মন্ডল (৫২), ২ নম্বর আসামি ৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন (৫৫), ৩ নম্বর আসামি ৩২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সোহেল (৩৫), ৪ নম্বর আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন (৪০), ৫ নম্বর আসামি আলমগীর হোসেন (৩০), ৬ নম্বর আসামি গাছা থানা ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রানা ওরফে পিচ্চি রাসেল (২০), ৭ নম্বর আসামি নাদিম (২৬), ৮ নম্বর আসামি মোঃ মিন্টু খান (২৫) এবং ৯ নম্বর আসামি মোঃ আলমাস খান (৪৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৪/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৮০/৫০৬/৩৪/১১৪ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গাছা থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।