স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: “ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্খা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সনাক, টিআইবি ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গাজীপুরে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হলরুমে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সভায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, গাজীপুর এর সহকারী পরিচালক মোঃ মনসুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সনাক সহ-সভাপতি শেকানুল ইসলাম শাহীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রাধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সনাক টিআইবি, গাজীপুরের সভাপতি যোবেদা আখতার।
অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর আবু তাহের মোঃ রাকিব, সিনিয়র প্রশিক্ষক হাবিবুর রহমান, সনাকের সাবেক সভাপতি ফাতেমা জোহরা, সনাক সদস্য মোঃ হাসান আলী, সনাক, টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রাশিদুজ্জামান লিটন, রান ফর বেটার বাংলাদেশের সভাপতি সম্রাট হোসেন রুবেল, সনাক সদসয় সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন ট্রেডের যুব প্রশিক্ষার্থী, টিআইবির সনাক ও ইয়েস সদস্যগণ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর,গাজীপুরের শতাধিক কর্মকতা-কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের বাস্তবতা, জীবনযাপন, অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক পরিবেশ ভিন্ন। কোনো তরুণ হয়তো উন্নত দেশের প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে বেড়ে উঠছে, আবার কেউ উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জলবায়ু ঝুঁকি কিংবা শিক্ষার সীমিত সুযোগের মুখোমুখি হচ্ছে। কিন্তু এই ভিন্নতার মধ্যেও তরুণদের কিছু মৌলিক আকাঙ্ক্ষা অভিন্ন— মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ কর্মসংস্থান, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের মত প্রকাশের অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ, নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তরুণদের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার জায়গায় গভীর মিল রয়েছে। তাই যুব উন্নয়ন নীতিতে বৈচিত্র্যকে বিবেচনায় রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অংশগ্রহণ ও সুযোগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
“ভিন্ন বাস্তবতা” বলতে বাংলাদেশের তরুণদের জীবনযাপনের বৈচিত্র্য বোঝা যায়—শহর ও গ্রামের পার্থক্য, নারী ও পুরুষের সুযোগের বৈষম্য, শিক্ষিত ও কম-শিক্ষিত তরুণদের ভিন্ন সংকট, প্রযুক্তির সুযোগ ও ডিজিটাল বৈষম্য, এবং অঞ্চলভেদে অর্থনৈতিক ও জলবায়ুগত ঝুঁকি। অন্যদিকে “অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা” হলো—একটি ভালো শিক্ষা, সম্মানজনক কাজ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, সামাজিক মর্যাদা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে গড়ে নেওয়ার সুযোগ। সভায় টিআইবির পক্ষ থেকে ৭টি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।