স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: গাজীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে গাজীপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন। তিনি বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি শিক্ষা। মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তিনি শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠার সঙ্গে লেখাপড়া করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী (বার-অ্যাট-ল)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষা বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি সমাজের আস্থা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। জেলা পরিষদ ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম (উপসচিব)।
এ সময় কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ নুরুল ইসলাম সিকদার, সদস্য সচিব আলহাজ এম. আনোয়ার হোসেন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মোতালেব হোসেন, সদস্য সচিব খায়রুল কবির মণ্ডল আজাদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নির্বাচিত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা বৃত্তির চেক তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গাজীপুর জেলার মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা পরিষদের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।