July 31, 2026, 4:16 am

আর্থিক জট কাটিয়ে গতি পাবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, July 30, 2026
  • 20 জন দেখেছে

বিজয়বাংলা টিভি ডেস্ক :: শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন অর্থায়ন ব্যাহত হলেও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শ্যানডং প্রদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের অর্থায়ন জোরদারে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শ্যানডং (Shandong) প্রদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং সড়কপথের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান First Dhaka Elevated Expressway (FDEE) Co.-এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আরবিট্রেশন চলমান রয়েছে। এর ফলে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পে অর্থায়নকারী দুটি চীনা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি ছাড় বন্ধ রয়েছে। তবে এই আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে।
সৌজন্য সাক্ষাতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পটির আংশিক সুবিধা এরই মধ্যে ঢাকাবাসী পাচ্ছে এবং অবশিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক অংশ চালুর পর থেকেই প্রত্যাশার তুলনায় বেশি যানবাহন চলাচল করছে। পুরো প্রকল্প চালু হলে বিনিয়োগকৃত অর্থ সহজেই তুলে আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছেন এবং এই এক্সপ্রেসওয়েসহ সারা দেশে অভিন্ন ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে ইটিসি চালুর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম এস আকতার এবং চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
এদিকে, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের অষ্টম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চমানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
জাপান সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। এ ছাড়া জাপান সরকারের এমআইএলটির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন জাপানি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ ভোলা-লক্ষ্মীপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প উপস্থাপন করেন। জাপানি প্রতিনিধিদল প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে এবং দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কৌশলগত গুরুত্বের স্বীকৃতি দেয়।
সভায় বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশ কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর