স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের স্বকীয়তা, স্বাধীনতা ও গ্রাহকস্বার্থ রক্ষার দাবিতে গাজীপুরে দ্বিতীয় দফায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম গাজীপুর মহানগর। একই সঙ্গে ব্যাংকটির ওপর হস্তক্ষেপ ও বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের প্রতিবাদে এক ঘণ্টার কর্মবিরতিও পালন করেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ সোমবার সকালে গাজীপুর মহানগরের শিববাড়ী মোড়ে ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর সদর শাখার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ডা. আমজাদ হোসেন খান।
বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম জামি, মাওলানা এমরান হোসেন হাবিবী, মাওলানা হারুনুর রশিদ সিরাজী, আশরাফ আলী কাজল, আব্দুল আলিম, ওয়ালিউল্লাহ, শাহনূর হুসাইন, জালাল উদ্দিন, মাওলানা আব্দুর রব গাজীসহ সচেতন গ্রাহক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আস্থাভাজন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে অযাচিত হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। অতীতে ব্যাংকিং খাতে নানা বিতর্ক ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা শুধু ইসলামী ব্যাংকের জন্য নয়, গোটা আর্থিক খাতের জন্যই উদ্বেগজনক।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ মানি না, মানবো না’, ‘লুটেরা এস আলমের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে’, ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে’ এবং ‘ইসলামী ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে’-এমন লিখিত প্লে কার্ড ও নানা স্লোগানে শিববাড়ী মোড় প্রকম্পিত করে তোলেন।
বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও নেতৃত্বের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত অবশ্যই আইন, নীতিমালা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংকটির ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন চলাকালে গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দ ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর সদর শাখার ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় গ্রাহকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রতীকী এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মবিরতির মাধ্যমে তারা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ ও বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের চেষ্টা অব্যাহত থাকলে গ্রাহক সমাজ আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।