পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:: চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকে না। দেশের মানুষ জানে, তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের পটিয়ার খরনা মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে রবিবার (৩ মে) দুপুরে পটিয়া খরনা মুজাফরাবাদ শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনাসভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শত চেষ্টা করেও জনগণের হৃদয় থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা যায়নি। আগামী প্রজন্মকে বিকৃত নয়, সঠিক ইতিহাস জানতে হবে কে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছে, কে লড়াই করেছে, তা স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনায় শহীদদের স্মরণে বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এমপি এনামসহ উপস্থিত অতিথিরা। মুহূর্তটি ছিল নীরবতা ও বেদনার, যেখানে ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিচারণায়।
এমপি এনাম বলেন, আজকাল রাজাকারদের ভেতর থেকেও ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা বের হচ্ছে। এটি দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং ইতিহাসের সঠিকতা বজায় রাখতে নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন জরুরি। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও গণহত্যায় নিহতদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান মফজল আহমদ চৌধুরী, মঈনুল আলম ছোটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা সুনীল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট সুজিত বিকাশ দত্ত, অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী, তাপস কুমার দে ও পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দেবাশীষ দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিপ্লব সেন, কাজল কর, মানিক চন্দ্র কর, অজিত চৌধুরী, মোহাম্মদ জসিম, আবদুল করিম, আবদুল সবুর, আবসার উদ্দিন সোহেল, অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, ডা. বি. কে. দত্ত, অজিত দত্ত পুলক, প্রদীপ কর, নিউটন বিশ্বাস, নয়ন দাশ বর্মন প্রমুখ।