May 2, 2026, 9:18 pm

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, May 2, 2026
  • 4 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সাধারণ দিনের নীরবতা ভেঙে আজ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম। দর্শকে পরিপূর্ণ গ্যালারি, মাঠজুড়ে খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স, আর চারপাশে নিরাপত্তা ও সংবাদকর্মীদের ব্যস্ততা-সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়াম থেকেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল তরুণ প্রতিযোগীরা।
১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ একসময় টেলিভিশনের জনপ্রিয় প্রতিভা অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। বহু বছর পর সেই ধারণা এবার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন রূপে ফিরে এলো, সবুজ মাঠে প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ হিসেবে।
দেশের ভবিষ্যৎ তারকাদের উৎসাহ দিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৩২ জন খ্যাতিমান খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন এই আয়োজনে। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি থেকে শুরু করে নানা ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিরা ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে যুক্ত হয়ে খুদে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করছেন।
সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা চালু করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ক্রীড়াকে দেশের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ঢাকার বাইরে সিলেট থেকে এই উদ্যোগের সূচনা করা হয়েছে, যাতে সারাদেশে সমানভাবে সুযোগ তৈরি হয়।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে আটটি জনপ্রিয় খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা থেকে শুরু হয়ে জেলা, বিভাগীয় এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে প্রতিযোগীরা। আঞ্চলিক পর্যায়ের খেলা চলবে ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত।
পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে আয়োজনটি পরিচালিত হচ্ছে-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল এতে অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি পর্যায়ে আলাদা প্রশাসনিক কমিটি তদারকি করছে, যাতে কোনো প্রতিভা উপেক্ষিত না হয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতি, দাবায় সুইস লিগ এবং অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে বাছাই ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।
অল্প সময়ের মধ্যেই সারা দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন করেছে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী-যার মধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ এবং মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ঢাকা অঞ্চল থেকে, আর সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে।
সব মিলিয়ে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ক্রীড়া তারকা তৈরির এক বৃহৎ স্বপ্নযাত্রার সূচনা।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর