May 3, 2026, 4:02 pm

গাজীপুরে হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে ডুবছে বোরো ধান, মজুরি বেড়ে ১২০০

Reporter Name
  • আপডেট Friday, May 1, 2026
  • 30 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম:: গাজীপুরের তুরাগ, ঘাটাখালি, বানারসহ বিভিন্ন নদী-খালে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের পাকা ধান। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শত শত কৃষক। এদিকে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২শ টাকায়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাজার, ফুলবাড়িয়া, বড়ইবাড়ী, সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর, কাপাসিয়া বাজার, কালিগঞ্জের আওড়াখালিসহ কয়েকটি শ্রমবাজারে ধান কাটা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি হাঁকাচ্ছে ১১শ থেকে ১২শ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার অলুয়া বিল, চানপাত্তা বিল, মকস বিল, উজান বিল, কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ বেষ্টিত বৃহত্তর বেলাই বিলে গত দুদিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে এসব এলাকায় মৌসুমি বোরো ধান ডুবে যাচ্ছে। অধিকাংশ জমির ধান পুরোপুরি পাকা থাকায় ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। আবার অনেকেই ডুবে যাওয়ার ভয়ে কাঁচা ধান কেটেও ঘরে তুলছেন।
এদিকে তুরাগ নদীর পানি বৃদ্ধিতে গাজীপুরের অন্যতম খাদ্যভাণ্ডার অলুয়ার বিল, চানপাত্তা ও মকস বিলে গত তিনদিন আগে থেকে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে অন্তত ২ হাজার বিঘা জমির কাচা,পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ধান কাটার ধুম পড়েছে এসব অঞ্চলে। জমিতে পানি থাকার কারণে চরম ভোগান্তি নিয়ে নৌকা, কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করে জমি থেকে ধান কেটে পাড়ে তুলে মাড়াই করছেন কৃষকরা।
বিলে ধান কাটা শ্রমিক সবুর মিয়া জানান, তিনি ১৩ দিন আগে পঞ্চগড় থেকে এসেছেন। প্রথম এক সপ্তাহ তেমন কাজকর্ম ছিল না। ৫০০ টাকা করে প্রতিদিন কাজ করছেন। হঠাৎ বন্যার পানি আসায় ধান কাটার তাড়াহুড়ো পড়ে যায়। তাই এখন ১২০০ টাকা করে মজুরি হাঁকাচ্ছেন।
শ্রমিকরা জানান, ১২০০ টাকা তো বড় কথা নয়, তারা না থাকলে গেরস্তদের ধান পানির নিচেই থেকে যেত। সেই ভোর বেলায় পানিতে নেমছেন তারা, হাঁটু জলে ধান কেটে নৌকা করে পাড়ে নিচ্ছেন। সবাই এক সাথে ধান কাটা শুরু করেছে, তাই মজুরি বেশি। আবার জমিতে পানি, এজন্য খাটুনিও বেশি।
কৃষক আব্দুল জাফর  বলেন, দিন দিন ধান চাষে ঝুঁকি বাড়ছে। আগে বন্যার পানি আসার আগে অনেক আরামে ধান কেটে ফেলতাম। সমতল জমিতে ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) ব্যবহার হতো। এ বছর আর সেই পরিস্থিতি নেই। বাজারে শ্রমিকের দামে আগুন। হাজারের ওপর রোজ দিয়ে ধান কেটে বছরে যা পাওয়া যাবে, তার সমপরিমাণ খরচ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে নদ নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি শুরু হলে ধান চাষ হওয়া বিলগুলোর সংযোগ খালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ দেওয়া হয়। তবে সেসব বাঁধ শক্তপোক্ত না থাকায় সহজেই ভেঙে যায়। এতে আচমকাই পানিতে ডুবে যায় শত শত বিঘা জমির ধান।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান   বলেন, হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে অনেক কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে। তাদের এসব ধান কেটে আনতে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। আবার যারা কাটতে পারেনি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের একটি তালিকা আমরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে করছি। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। কালিগঞ্জের বেলাই বিলের ৭০ শতাংশ ধান আগেই কেটে ফেলা হয়েছে এ বছর। এরকম সব উপজেলাতেই কাটা হচ্ছে। কিছু নিচু জমির ধান হুমকিতে পড়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর