স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরে গ্রেফতারকৃত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর আদালতের বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদী মামলার তদন্তে লক্ষ্যে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। এদিকে সুরভীর মুক্তির দাবিতে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করেছে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা।
জানা গেছে, ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। সোমবার পুলিশ তাকে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আবেদনের পর এ আদেশ দেওয়া হয়। সুরভীকে আদালত থেকে হাজত খানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সুরভী জানান, কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া অন্যায়ভাবে তার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
এদিকে রিমান্ডের শুনানী চলাকালে আদালত চত্বরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির সদস্যরা জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
সুরভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান জানান, এটি একটি মিথ্যা মামলা। আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আমরা রিভিশন করব। ইনশাআল্লাহ, আমরা ন্যায় বিচার পাব ও জেল থেকে মুক্তি পাবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় সুরভীসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাঈমুর রহমান দুর্জয়। মামলায় গত ১৮ নভেম্বর সংবাদ প্রকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার কথা বলে সাংবাদিক দুর্জয়কে হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকা হতে গাজীপুরে নিয়ে আসে সুরভী। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ ও আটক করে মারধর করা হয়, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ও নগদ টাকাসহ ৪৯ হাজার ২৭০ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে পরদিন মুক্তি দেয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের একজন উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে।