স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: আন্তর্জাতিক কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম সম্মানজনক বৈশ্বিক সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস’ বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ম ইয়াস বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টিকে থাকার জন্য তরুণদের নেতৃত্বে উদ্ভাবন ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান ও গাকৃবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইয়াস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর মোঃ ইসরাফিল হোসাইন। এতে দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়াসের গ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের দায়িত্বরত প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই যোদ্ধা ওসমান বিন হাদীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিশেষ দোয়ায় আয়োজন করা হয়। এরপর গাকৃবির ঐতিহাসিক সাফল্য ও নানা উৎকর্ষের উপর একটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ কৃষি ব্যবস্থায় তরুণদের নেতৃত্বের গুরুত্ব গভীরভাবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রধান অতিথি বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধায় শহিদ হাদীকে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল কংগ্রেস ২০২৫ সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগের সমন্বয় অপরিহার্য। নেতৃত্ব উন্নয়ন, বৈশ্বিক এক্সপোজার, গবেষণা বিনিময় এবং উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ইয়াস বাংলাদেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” বক্তব্যে উপাচার্য ইয়াস বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস ২০২৫ গাকৃবিতে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তব্য শেষে তিনি ইয়াসের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। ইয়াসের গাকৃবির লোকাল ডিরেক্টর হিসেবে নির্বাচিত হন তৌফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে ইয়াসের পক্ষ থেকে উপাচার্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদের স্মারক উপহার প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে কেস প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টে কৃষির সার্বিক উৎকর্ষ সাধনের উপর আইডিয়া সৃজনসহ নানাবিধ প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ভ্রমণ করবেন ইয়াসের প্রতিনিধিবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইয়াস বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এটি বাংলাদেশের ১৭টিরও বেশি কৃষি ও জীব-বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।