মো: মুর্শিকুল আলম:: গাজীপুর জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিতে গলিতে এখন শীতের পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা শীত শুরু করে যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। কর্মব্যস্ততার কারণে শহরের বাসাবাড়িগুলোতে আগের মতো অনেকের আর পিঠা বানানোর সময় সুযোগ হয়ে ওঠে না। কিন্তু পিঠার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না পিঠাপ্রেমীরা। সেজন্য সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গাজীপুর জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটপাতে ও অলি-গলিতে এইসব পিঠার দোকানে ভিড় দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতি বছর শীতের মৌসুম আসলে এক শ্রেণির মানুষ কিছু পুঁজি বিনিয়োগ করে পিঠা বানিয়ে বিক্রি করছেন। বিকাল হলেই ফুটপাতে বসে মাটির চুলা জ্বালিয়ে তার ওপর ছোট ছোট মাটির তৈরি পাতিল লোহার কড়াই বা হাঁড়ি বসিয়ে বানাচ্ছেন পিঠা। গরম গরম চিতই পিঠা নামিয়ে প্লেটে নানা ধরনের ভর্তা সাজিয়ে ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পিস চিতই পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকা করে। আর ভাপা পিঠা বিক্রি হয় ১০/১৫ টাকা। এতে একেকজন পিঠা বিক্রেতার প্রতিদিন আয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া, মুক্তাবাড়ী রোড, গাজীপুরা সাতাইশ, জয়দেবপুর, বড় বাড়ি, বোড বাজার, গাছা, বনমালা, তিস্তারগেইট, বউ বাজার, জামাই বাজার, নতুন বাজার, টঙ্গী বাজার, মিলগেইট, চেরাগআলী, মুদাফা, ফকির মার্কেট, বড় দেওড়া, চেরাগআলীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে শীতের পিঠা।
বড় দেওড়া এলাকার পিঠা বিক্রেতা রমিছা বেগম জানান, শীত এলে তাদের ব্যাবসা ভালো হয়। বছরের অন্যান্য সময় পিঠা বিক্রি না হলেও শীতে দোকান খোলার পরপরই ক্রেতাদের ভিড় পড়ে যায়। দিনের চেয়ে রাতে পিঠা বিক্রি বেশি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে সিরিয়ালে পিঠা বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি চালের গুড়োর পিঠা বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ হয় তা দিয়েই সংসার চলছে তার। চেরাগআলী এলাকার পিঠা বিক্রেতা জরিনা বেগম জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি চালের চিতই পিঠা বিক্রি করেন তিনি। তিনি দুধ ও ডিম দিয়ে চিতই পিঠাও বিক্রি করেন। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা আগেই তার কাছে এসে এই পিঠার অগ্রিম অর্ডার দিচ্ছেন। কেউ কেউ চুলার আগুনের পাশে বসেই দু-চারটি করে পিঠা খেয়ে যাচ্ছেন। আমি সন্ধ্যার পরেই পিঠা দোকান খুলি। শীতকালে এই পিঠা বিক্রি করে আমি আমার পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করি।
পিঠা ক্রেতারা জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে শহরের বাসাবাড়িগুলোতে আগের মত অনেকের আর পিঠা বানানোর সময় সুযোগ হয়ে উঠে না। কালের বিবর্তনে অনেক ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ পিঠা ব্যবসায়ীরা খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করে। সহকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে মাঝেমধ্যেই ফুটপাতে গিয়ে পিঠা খেয়ে আসি। ফুটপাতে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।