June 5, 2026, 6:50 am

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিদ্যমান সংকট নিরশনে উত্তরায় ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, November 18, 2025
  • 73 জন দেখেছে

এস.এম বিজয় চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা :: দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র রপ্তানি খাত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রেতাদের আস্থার সংকট এবং বিভ্রান্তিকর সরকারি বার্তা সব মিলিয়ে বড় ক্রেতারা কার্যাদেশ দেওয়া থেকে সরে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ক্রেতারা কার্যাদেশ দেবে না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা পোশাক খাতে বিদ্যমান সংকট ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজজামান সভাপতিতে মতবিনিময় সভা বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সরকার আমাদেরকে এলডিসি গ্রাজুয়েশন চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। এখন আমরা প্রস্তুত না।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত তার শিল্প মালিকদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে যা আমার শিল্পের জন্য ভয়াবহ অবস্থা হবে। আমাদের দেশের সরকার আমাদের ব্যাংকগুলোকে টিকে রাখার জন্য হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সেই টাকা কই গেল,ব্যাংক তো আমাদের টাকা দিচ্ছে না। আমাদের মেগা প্রজেক্টগুলো বিদেশিদের কে চেক না করে দেয়া হচ্ছে। অথচ আমরা বেবসায়ীরা কোন সহযোগিতা পাই না।
বিজিবিএ সভাপতি মোহাম্মদ পাভেল বলেন, পোশাক খাতের সংকটের শেষ নেই, নিরাপত্তা, পলিসি সংকট। এই সংকট সমাধান এর জন্য সবাই মিলে রোড মাপ করতে হবে। আমলারা রোড মাপ করলে হবে না। সংকট সমাধান এর জন্য আগামী নিবাচেন সরকারে পোশাক খাতের প্রতিনিধিত দরকার।
তিনি আরও বলেন, বায়াররা অডার দেওয়া নিয়ে কোন নিরাপত্তা বাংলাদেশে একমুহূর্তে পাচ্ছে না। বিজিএমইএ সহ সভাপতি মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম পোটের দুর অবস্থা এবং এয়ারপোর্টের আগুন নিয়ে পোশাক খাতের সবাই খতিগ্রস্ত। বিকেএমইএ পরিচালক খেলায়েত হোসেন সরকার এর কাছে নীতিগত সহায়তা দাবী করেন।
স্পারো গ্রুপের বাবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, গত চার মাস ধরে অর্ডার কমছে। অথচ সরকারের কোনো নীতিগত সহায়তা পাইনি। বর্তমান পরিস্থিতি কোভিড সময়ের চেয়েও খারাপ। অনেক কারখানা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ক্লাসিফায়েড হয়ে যাচ্ছে। বহির্বিশ্ব থেকে তারা ভাববে—যে দেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুড়ে যায়, সেখানে অর্ডার দেওয়া নিরাপদ নয়। আমাদের কারখানা পুড়ছে, ঘরবাড়ি পুড়ছে, এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও পুড়েছে। দৃশ্যমান ক্ষতির চেয়ে অদৃশ্য ক্ষতি আরও বেশি, যা খালি চোখে দেখা যাবে না। ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে, ব্যাংক বন্ধ হচ্ছে—আপনারা নির্বাচন দিয়ে আমাদের মুক্তি দিন, আমরা শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই।
ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে- শ্রমিক সংগঠন সংক্রান্ত, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক আস্থার পরিবেশ, নীতিগত সহায়তার আহ্বান, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন।
এ সময় বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজজামান, ফারুক হাসান, রফিকুল ইসলাম, বিজিএমইএ মেম্বার, কফিল উদ্দিন, চৈতী গ্রুপ এর বাবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম, উত্তরা ক্লাব সভাপতি ফয়সাল তাহেরসহ বিজিএমইএ, বিজিবিএ বিকেএমইএসহ বিভিন্ন উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী সেক্টরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর