দৈনিক বিজয়বাংলা নিউজ ডেস্ক :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকে কেন্দ্র করে চার জেলার বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও প্রচার ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজশাহীর চারঘাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বাগমারায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য এনামুল হকের ব্যক্তিগত সহকারীসহ চারজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
চারঘাট (রাজশাহী) : নৌকা প্রতীকের সঙ্গে ছবি না তোলায় রাজশাহীর চারঘাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীকে গত বৃহস্পতিবার রাতে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মীর নাম মো. নাজির (৩৫)। আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হানের সমর্থক। এ ঘটনায় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আহত নাজিরের বড় ভাই উজির আলী বাদী হয়ে নৌকা প্রার্থীর সাত কর্মী-সমর্থককে আসামি করে চারঘাট থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে গৌড়শহরপুর এলাকার ফায়সাল হোসেন (৩৫) ও আস্কপুর এলাকার বাপ্পি (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
রায়হানুল হক জানান, রাত ৯টার দিকে চারঘাটের ট্রাফিক মোড় এলাকায় কাঁচি প্রতীকের প্রচার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন নাজির। পথে সরদহ বাজারে নৌকা প্রার্থীর অফিসের সামনে তাঁর পথ রোধ করেন বাস্তুহারা লীগের সভাপতি শামীম সরকার। এরপর নাজিরকে ওই অফিসের ভেতরে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে নৌকা প্রতীকের সঙ্গে ছবি তুলতে বলেন। নাজির রাজি না হলে তাঁকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য এনামুল হকের ব্যক্তিগত সহকারীসহ চারজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেঁউখালী গ্রামে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এনামুল হকের ব্যক্তিগত সহকারী আতাউর রহমান, সমর্থক গোলাম মণ্ডল, আয়ুব আলী ও শরিফ উদ্দিন। এনামুল হক বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আমার নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা করেই যাচ্ছেন। শুক্রবারও পোস্টার টাঙাতে গেলে তাঁরা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছেন।’
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরিবিন্দ সরকার বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজনকে মারপিট করার কথা শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পোরশা (নওগাঁ) : নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও নিজ নিজ কর্মীদের মারধরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। গতকাল নৌকার প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেকুজ্জামান তোতা নিজেদের নির্বাচনী ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। পোরশা থানার ওসি আতিয়ার রহমান বলেন, দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান কার্যালয়ে নৌকার প্রার্থী জিল্লুর রহমানের সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকায় জাপার প্রার্থী মো. আলতাফুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা হয়েছে।
জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেছেন, হামলায় জেলা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। হামলাকারীরা মারধরের সময় হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এখানে নৌকার অফিস ছাড়া অন্য কোনো দল ও প্রার্থীর অফিস করা যাবে না। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য নৌকার প্রার্থী জিল্লুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে।’
মেহেরপুর : মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ভোরে রাইপুর ইউনিয়নের হেমায়েতপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে ব্যানার ও পোস্টার।
গাংনী আসনের নৌকার প্রার্থী ডা. এ এস এম নাজমুল হক সাগর বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য কিছু কুচক্রী আগুন দিয়েছে। এভাবে অফিস পুড়িয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’