July 9, 2026, 11:34 am

টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক

Reporter Name
  • আপডেট Friday, October 6, 2023
  • 143 জন দেখেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: সাভারের আশুলিয়ায় দেশের ব্যস্ততম সড়ক টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে টানা বর্ষণে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাইপাইল-জামগড়া এখন কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটু পানির নিচে। যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মোরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলোতে পানি ঢুকে বিকল হয়ে সড়কে আটকে গেছে। কাজের প্রয়োজনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পানি মাড়িয়ে অনেক চেষ্টা করছেন গন্তব্যে পৌঁছনোর। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দখলে ভরাট নদী-খাল। পানির নামার উপায় নেই। এমন অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়-দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার বাইপাইল বাস স্ট্যান্ডে দেখা মেলে ঢেউ খেলানো ময়লা পানির জলাবদ্ধতার। বাইপাইল স্ট্যান্ড থেকে জামগড়াসহ সরকার মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ডুবে আছে পানিতে। সড়কের আশপাশের বেশিরভাগ বাড়ি ঘর বাজার-ঘাট এখন পানির নিচে। অনেককে পায়ে হেঁটে ভিজে ভিজে কোমর পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। চলতি পথে সড়কে মোটরসাইকেল বিকল হয়ে যায়। সেগুলো অনেকেই পানিতে নেমে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ বাড়তি ভাড়ায় রিকশায় যাতায়াতের চেষ্টা করছে। এরমধ্যে পানির নিচে থাকা গর্তে রিকশা পড়ে গিয়ে কয়েক জন যাত্রী আহতের ঘটনাও ঘটে।

গতরাতে বৃষ্টির পর থেকেই বাড়তে থাকে পানি। আর সকাল হতেই যাত্রীদের কাছে বিশাল আতংক নিয়ে দেখা দেয় এই ডুবে থাকা সড়ক। পানি নিষ্কাসনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অপ্রতুল। সকালে ময়লা-আবর্জনায় আটকে থাকা ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও ধীর গতিতে পানি নামতে দেখা যায়। প্রয়োজনের তুলনায় ড্রেনে পানি নামার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।

বাস থেকে নেমে মাথায় বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন করিম হোসেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের র্দুগতির শেষ নেই। আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেব শুধু বলেন, আমরা দেশ উন্নয়ন করছি। আজকে আমরা উন্নয়নের ফসল ভোগ করছি। রাস্তা আছে পানি যাওয়ার লাইন নাই। পানির নামার ব্যবস্থা থাকলে জনগণের এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সড়কটি সড়ক ও জনপথের আওতা থেকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতাধীন। ফলে এই সড়কটির দায়-দায়িত্ব এখন এই প্রকল্পের। ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলক পাইলিং কাজের উদ্বোধনের সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য যাতে নিচের এই সড়কটিতে মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের পরামর্শও দিয়েছেন মন্ত্রী।

যদিও বাস্তবে সেই চিত্র এখন ভিন্ন। তবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দায়িত্ব নেওয়ার আগেও সড়কের পুরনো সমস্যা এটি। বিগত দিনেও সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের অভাব ও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না করার ফলে এমন দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে উড়াল সেতুর আগে নিচে সড়কের কাজ হবে কিনা?  তা নিয়ে সাধারণ মানুষের শঙ্কা প্রকল্পের শুরু থেকেই।

এ বিষয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ, আমরা পাম্পও লাগিয়েছি। সামনের বছর আর এই কষ্ট থাকবে না। মূল ড্রেনের কাজ শুরু হবে দুই এক মাসের মধ্যেই, তখন আর এই সমস্যা থাকবে না। পানি যাওয়ার কোথাও রাস্তা নাই। এর সাথে যোগ হয় ইন্ডাস্ট্রির পানি।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন বৃষ্টি থাকে না তখনও রাস্তার ওপরে পানি থাকে। আমার লোকেরা চেষ্টা করছে, আমিও সাইট থেকে মাত্রই ঘুরে গেলাম। রাস্তাও ভেঙে-টেঙে গেছে, আগামী সপ্তাহেই আমরা ইনশাআল্লাহ রিপেয়ারের কাজ করে ফেলতে পারব, যদি বৃষ্টি না থাকে। বাইপাইল অংশের পানি আজকেই নেমে যাবে, আর জামগড়ায় ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনের পানি আশা করি কালকের মধ্যেই নেমে যাবে।’

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর