মো: আক্তার হোসেন ডালি, বিশেষ প্রতিনিধি :: গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা সেখানে বসেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাঁর সঙ্গে দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের একটি বৈঠক হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে জনগণের চোখে ব্যর্থ প্রমাণ করা এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। সরকার–বিরোধী বিভিন্ন মহল এই ঘটনাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে।
এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তৎপর হয়েছেন রাজনৈতিক মহল। রবিবার সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি’র সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন—“দেশের জনগণ যে ত্যাগের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে, সেই ত্যাগকে ভিন্ন পথে নস্যাৎ করার জন্য বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।” স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে এ নিয়ে নড়াচড়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনা ও ব্যবসায়ী মহলের এই বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বাংলাদেশে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আগামী দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে—দেশীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিদেশি মদদপুষ্ট ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা।