নিজস্ব প্রতিবেদক :: জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ঢাকায় কর্মরত জাতিসংঘের কর্মকর্তাসহ বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন গোয়েন লুইস।
জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় সজাগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি যারা আছেন তাদের অগ্রাধিকার দিয়েই ব্যবস্থা নিচ্ছি। যদি গোয়েন লুইস মনে করেন তার নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে, তা হলে তিনি সরকারকে জানালেই সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক বলেছেন, অধিক নিরাপত্তা পেতে তাদের তো একটি লম্বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তারপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। আমরা তাদের একটি সহজ পদ্ধতি বলে দিয়েছি যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে আমাদের কাছে সেটির একটি অনুলিপি দিলেই আমরা পদক্ষেপে যাব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ আছে, যাতে কেউ কোনো রকম নাশকতা কিংবা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।
বিদেশি কূটনীতিকরা মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে কি না, জানতে চাইলে আমরা বলেছি, যেখানেই যেতে চান যেতে পারেন। যদি তিনি মনে করেন সহযোগিতার দরকার আছে, আমরা সেটা করব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অভ্যন্তরীণ রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে পুলিশি পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক। তবে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আমরা বলেছি, নাফ নদের ওই পারে মিয়ানমারের সীমান্ত। কিছুটা দুর্গম পথ রয়েছে, বাকিটা সহজ। যে কারণে তারা প্রবেশ করতে পারছে। আমরা দেখছি, মিয়ানমারের সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ চলছে। চেহারা একই রকম হওয়ায় আমাদের এখানে আরাকান আর্মিরা ঢুকে পড়ে, আমরা দেখেছি। সে কারণে মাঝেমধ্যে দুয়েকটা ঘটনা ঘটছে। আমরা বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে আরও সতর্ক থাকতে বলেছি, যাতে তারা ঢুকতে না পারে।
এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতা স্বপ্রণোদিত হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। কাউকে চাপ দিয়ে নির্বাচনে আনা হচ্ছে না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এসব নেতাকর্মী তৃণমূল বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। সেটা যারা পারবেন না, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও অংশ নেবেন। নির্বাচনে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
বিএনপি অভিযোগ করেছে নির্বাচন থেকে তাদের দূরে রাখতে মামলা ও দণ্ড দেওয়া হচ্ছে-এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি যদি এভাবে বলি বিএনপির সিদ্ধান্তটাই তাদের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেনি। যার প্রমাণ আমি দেখালাম। তারা আরও দুটি দলে ভাগ হয়ে গেছে। বিএনপি নেতারাই ভাগ করেছেন। একটায় গেছেন তৈমূর আলম খন্দকার আর একটায় শমসের মবিন চৌধুরী। এরা সবাই বিএনপির প্রমিনেন্ট নেতা, তারাই ভাগ হচ্ছেন। এখানে কাউকে জোর করতে হয়নি, তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত তাদের মনঃপূত হচ্ছে না। তারা নির্বাচনমুখী সে জন্যই তারা নির্বাচনে চলে আসছেন। তারা তাদের সেন্ট্রাল কমিটির নির্দেশের বাইরে চলে আসছেন। আমাদের দল থেকে তাদের জোর করার কিংবা আহ্বান জানানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।