July 9, 2026, 10:09 am

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন দুনিয়ার বালা-মুছীবত থেকে মুক্তিদান 

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, September 9, 2023
  • 137 জন দেখেছে

মুহম্মদ আবুল বাশার :: সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য।সাইয়্যিদুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরুদ শরীফ ও সালাম। সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে পরকালে যেমন জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে পরিত্রাণ লাভ হয় ও সম্মানিত জান্নাত এবং উনার নাজ-নিয়ামত নছীব হয়। একইভাবে সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে দুনিয়াবী শাস্তি থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়, এমনকি দুনিয়াবী সবচেয়ে বড় শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; সেই মৃত্যুদণ্ড- থেকেও পরিত্রাণ পেয়েছেন এমন অনেক ঘটনাই কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে-শাসক আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনকালে শামদেশের এক সুদর্শন যুবক সে ঘোড়ায় চড়ে খেলতেছিল। একদিন হঠাৎ সে তার ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যায়। অতঃপর ঘোড়ার পিঠে উঠলে ঘোড়াটি তাকে নিয়ে শাম দেশের পথে চলতে শুরু করে। ঘোড়াটিকে সে থামাতে সক্ষম হচ্ছিল না। অতঃপর ঘোড়াটি খলীফার দরজায় গিয়ে উপনীত হলো। তখন খলীফার ছেলে ঘোড়ার সামনে চলে আসলো এবং খলীফার ছেলেটিও ঘোড়াটিকে ফিরিয়ে রাখতে সক্ষম হলো না বরং সে ঘোড়ার দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং নিহত হয়। এই সংবাদ খলীফার নিকট পৌঁছলে খলীফা উক্ত যুবককে তার দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য আদেশ করলো। খলীফার আদেশ যখন তার প্রতি ঘোষণা করা হলো, সেটা কঠিন বিপদ মনে করে সেই যুবক বললো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ উপলক্ষে আমি বড় করে ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করবো এবং তা (প্রতিবছর) জারী রাখবো। অতঃপর সেই যুবক খলীফার সমীপে উপস্থিত হলো এবং তার দিকে দৃষ্টি দিল। তখন হত্যার গোস্বা থাকা সত্ত্বেও খলীফা হেসে দিল। অতঃপর বললো, হে ব্যক্তি! তুমি কি জাদু করো? সে বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি জাদু করি না। অতঃপর খলীফা বললো, আমি তোমার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম। অতএব, তুমি যা বলার তা আমাকে বলতে পারো। তখন সেই যুবক বললো, আমি নিয়ত করেছিলাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ বা মীলাদ শরীফ উপলক্ষে ওলীমা মাহফিলের ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং প্রতিবছর তা জারী রাখবো।

অতঃপর খলীফা পূনরায় বললো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাকে সুমহান মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা হাদিয়া করলাম এবং আমার ছেলের হত্যার অপরাধ থেকেও মুক্তি দান করলাম। যুবক খলীফার দরবার থেকে মৃত্যুদ-ের শাস্তি থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে বের হলো এবং সুমহান মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা গ্রহণ করলো। এ বিষয়টি যখন প্রকাশিত হলো, তখন যুবকের সমস্ত ভাই মনযোগী ও আগ্রহী হলো আদনান গোত্রের শ্রেষ্ঠতম আওলাদ অর্থাৎ সাইয়্যিদে উইলদে আবুল বাশার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ তথা মীলাদ শরীফ পালনের ব্যাপারে। কেননা উনার কারণেই সমস্ত রূহ ও দেহ সৃষ্টি হয়েছে এবং উনার সম্মানার্থে তারা লাভ করেছে জীবন, সম্পদ ও খাদ্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ও আপনাদেরকে উনার সম্মানিত নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত বা মীলাদ শরীফ দায়িমীভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন। এবং এ উদ্দেশ্যে সমস্ত দিনব্যাপী ও সময়ব্যাপী মাল সম্পদ খরচ করারও তাওফীক দান করুন। আমীন।দলীলঃ (ইয়ানাতুত ত্বালিবীন: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ৬১৩),যামানার তাজদীদি মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে (সংকলিত)

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর