রাজধানীর উত্তরা ডিয়াবাড়ি এলাকায় বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ এর কার্যালয়ে গত বুধবার বিকেলে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানিতে বিআরটিএ’র সেবা প্রার্থীরা বিভিন্ন বিষয় পরামর্শ করেন এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ও সঠিক সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়ার বিষয়ে গ্রাহকদের মুখোমুখি হন বিআরটিএর চেয়ারম্যান।
এ সময় গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন, সওজ সংস্থাপন ও টিএ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ কামরুল হাসান, উপ-পরিচালক এন্ড ফোর্সমেন্ট, মোঃ হেমায়েত উদ্দিন, বিআরটিএ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফা নুসরাত ও ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেলের উপ-পরিচালক কাজী মোঃ মোরছালীন, লাইসেন্স শাখার এডি লিটন বিশ্বাস, এবং ইন্সপেক্টর মোঃ নাজমুল হাসান ইন্সপেক্টর, মোসাম্মৎ নাহার, ফিটনেস শাখার এডি মোঃ বশির আহমদ, ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান, ইন্সপেক্টর মোঃ লাভলু শিকদার, আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজস্ব কর্মকর্তা সুনীল বাবু, মালিকানা বদলি শাখার উচ্চমান সহকারী মোঃ ইব্রাহিম খলিল রেজা, রেজিস্ট্রেশন শাখায় মো: সকেন উদ্দিন, বি আরটি এ কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: আশিকুর রহমান আশিক।
এছাড়াও গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, সীল মেকানিক্স মিজানুর রহমান মিজান, এমডি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপ্রাইটর বিজয় চৌধুরী, উত্তরা ডিয়াবাড়ি ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো: আবুল হাশেম, গাড়ি ব্যবসায়ীগণ, ড্রাইভার ও হেলপারসহ সর্বস্তরের জনগণ।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-বিআরটিএ চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পাল। এ সময় তিনি গ্রাহকদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে এবং সেবা প্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের আশ^াস দেন।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বিআরটিএ’তে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের সকল অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা হবে। এখানে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যেসব কর্মকর্তারা গ্রাহকদের হয়রানি করছেন তাদের বিরুদ্ধে হেড অফিসে অভিযোগ দেওয়া হবে এবং একটি তদন্ত কমিটি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পাল সাংবাদিকদের বলেন, লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই সমস্যা পড়েছেন আমরা জানি, আপনার একটু ধৈর্য ধরেন স্বল্প সময়ের মধ্যে সকল সমস্যা সমাধান করা হবে। যাদেরকে লাইসেন্স প্রিন্ট করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যদি বিষয় গুলো সমাধান না করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
গাড়ি ব্যবসায়ী মোঃ আশিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অনলাইনে মালিকানা বদলির জন্য আবেদন করতে গেলে নানান জটিলতা দেখা দেয়। আমি একজন গ্রাহক, আমার নাম রবিউল ইসলাম। সার্ভিস পোল্টার মধ্য দিয়ে বিআরটিএ এর কার্যক্রমের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য দুইটা হেল্প নাম্বার দেওয়া আছে এই নাম্বার কল দিয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। যতবার ফোন দিবেন ততবার ফোন রিসিভ করে এবং টাকা কেটে নেয়। সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো যে হেল্প নাম্বার আছে সেখানে ফোন দিলে জরুরী সেবাও তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু বিআরটিএ এর দুটি হেল্প নাম্বারের পাওয়া যায় না। নাম্বারগুলো অকার্যকর। বর্তমান যে ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ডটা দেওয়া হয়। এই ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ডটা খুব নিম্নমানের। অফিস ফি ৬০ টাকা দেওয়া হয়। বেবি লাইসেন্স কাট্টি কোন গ্রাহক তার নিকটস্থানে এবং বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় না। হয়তো তারা পোস্ট অফিস থেকে একবার বা ফোন দেয় দ্বিতীয়বার আর কোন ফোন দেওয়া হয় না।
একজন ক্রেতা একটি গাড়ি কিনে সে কিভাবে অনলাইনে আবেদন করবে এ বিষয় নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও অনেক গ্রাহক সেটা সঠিক নিয়মে করতে পারে না বিধায় যে কোন কম্পিউটারের দোকানের সহযোগিতা নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকে। মালিকানা বদলির ক্ষেত্রে বর্তমানে যেই প্রক্রিয়া রয়েছে ক্রেতা বিক্রেতা এবং গাড়ি হাজির করা হলে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ফাইল বিআরটি অফিসে রিসিভ করে একনলেজমেন্ট সিলিপ দেওয়া হয়। এইটা কে আমরা কোন ভোগান্তি মনে করি না এটা আমাদের জন্য খুবই সহজ কিন্তু অনলাইন প্রক্রিয়াটা আমাদের জন্য সহজ হবে না। পরে গ্রাহকদের মতামত শুনে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বলেন, অফলাইন অনলাইন দুটোই সিস্টেম চালু আছে এবং থাকবে। মেট্রো সার্কেল-৩ এর উত্তরা ডিয়াবাড়ী কার্যালয়ে এ গণশুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়।