বিনোদন ডেস্ক :: সময়টা সত্তর দশক। বাংলা সিনেমায় আসেন একজন অভিনেতা। তবে তার নামের আগে বসাতে হবে কৌতুক অভিনেতা। তিনি টেলিসামাদ। ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আসেন এই গুণী অভিনেতা। একে একে প্রায় ছয় শতাধিক চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাকে। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নাটকেও। নানা ধরনের চরিত্রে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে দারুণভাবে।
নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের বিনোদন ও হাসিতে সারাক্ষণ মাতিয়ে রাখেন টেলি সামাদ। একসময় কৌতুক অভিনেতা বললেই চলে আসত তাঁর নাম। শুধুমাত্র কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। একটা সময় চলচ্চিত্র মানেই টেলিসামাদের উপস্থিতি।
আর তার উপস্থিতি মানেই পর্দার সামনে বসে থাকা দর্শকদের তুমুল হাসাহাসি। সত্তর, আশি ও নব্বই দশকের অধিকাংশ সিনেমা মানেই হাসির রাজা টেলিসামাদের অভিনয়।
বরেণ্য এ অভিনেতা ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পরে এই গুণী অভিনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর বড় ভাইও একজন চারুশিল্পী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়া সেই ছেলেটি বাংলা চলচ্চিত্রের অসাধারণ কমেডিয়ান হিসেবে দেখা দিয়েছিলেন।
প্রথম দিকে তিনি আব্দুস সামাদ নামে পরিচিত ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন তার ডাক নাম দিয়েছিলেন টেলিসামাদ। তারপর থেকে তিনি এ নামেই পরিচিত হন।
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসলেও ‘নয়নমনি’ ও ‘পায়ে চলার পথ’-এর মত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থান করে নেন। আরও মজার তথ্য হলো, গুণী এই অভিনেতা ‘মনা পাগলা’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি ৫০টির মত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০১৫ সালে তাঁর অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘জিরো ডিগ্রী’ মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছিলেন অনিমেষ আইচ।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে বেশ অসুস্থ ছিলেন এই অভিনেতা। একসময় চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে আসে তার। কেউ তাকে দেখতে যাননি বলে আক্ষেপও ছিলো তার। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মৃত্যু বরণ করেন তিনি। আজ এই অভিনেতার জন্মদিন। তাকে ঘিরে নেই তেমন কোনো আয়োজন। তবে পারিবারিকভাবে তাকে স্মরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।