স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আজ শুক্রবার ফজরের নামাজের পর মাওলানা আহমাদ বাটলারের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বৃহস্পতিবার তাবলিগ জামাতের রেওয়াজ অনুযায়ী ফজরের নামাজের পর নির্দেশনামূলক বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। ইজতেমা ময়দানে তিন দিনব্যাপী সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান, ইবাদত বন্দেগির নিয়মকানুন ও করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে বয়ান করা হয়। উর্দু ভাষার মূল বয়ানকে মূল মঞ্চের চারপাশে বিদেশি বিভিন্ন ভাষাভাষী মেহমানের জন্য বাংলা ছাড়াও ইংরেজি, আরবি, ফার্সিসহ কয়েকটি ভাষায় তাৎক্ষণিক ভাষান্তর করে শোনানো হয়। ইমান, আমল, আখলাকসহ তাবলিগের ছয় উসুল বা মূলনীতির ওপর শীর্ষ মুরব্বিদের করা বয়ান প্রতিদিনই তাৎক্ষণিক ভাষান্তর করে শোনানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
আজ জুমার নামাজের আগে তালিম করবেন মাওলানা জিয়াউল হক; জুমা পড়াবেন মাওলানা যোবায়ের। জুমার পর বয়ান করবেন জর্ডানের খতিব ওমর; আসরের পর কাকরাইল মসজিদের খতিব মাওলানা যোবায়ের ও মাগরিবের পর মাওলানা আহমদ লাট। প্রথম পর্বের ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী জহির ইবনে মুসলিম এসব তথ্য জানান। ভারত, পাকিস্তান, কুয়েত, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, জাপান, ওমান, কানাডা, মোজাম্বিক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, ইতালি, জর্ডান, যুক্তরাজ্যসহ অন্তত ৪০টি দেশের প্রায় এক হাজার বিদেশি মেহমান ময়দানে পৌঁছেছেন। বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদেশি মেহমানদের খিত্তাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশি খিত্তার পাশে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর উপনিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমার নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ছয় হাজার পুলিশ সদস্য।
ইজতেমা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের সার্বিক সেবা দেওয়ার জন্য ১০টি বিভাগ করা হয়েছে। বিভাগগুলো হলো-পাহারা, এস্কেবাল (অভ্যর্থনা), জুর্নেওয়ালী, পানি, বিদ্যুৎ, মাইক, সাফাই, রিজার্ভ, গোডাউন ও নজমওয়ালী জামাত।
আশা করা হচ্ছে, আজ ইজতেমা ময়দান ছাপিয়ে কামারপাড়া, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের অলিগলিতেও কাতারবদ্ধ হয়ে জুমার নামাজে অংশ নেবেন মুসল্লিরা। ময়দানের পশ্চিমে তুরাগ নদের পূর্ব পাশে নামাজের মিম্বার এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে বিদেশি মুসল্লিদের কামরার পাশে বয়ান মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নামাজের মিম্বার থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমাম এবং বয়ানের মঞ্চে বয়ানকারী অবস্থান করেন। বয়ান মঞ্চ থেকে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করা হবে।
এক বর্গকিলোমিটার আয়তনের ময়দানে বাঁশের খুঁটির ওপর বয়ান শোনার জন্য লাগানো হয়েছে বিশেষ ছাতা মাইক। বসানো হয়েছে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক বাতি। দেশীয় তাবলিগ জামাতের মুসল্লিদের জন্য জেলাওয়ারি আলাদা খিত্তা রয়েছে।
আরেক মুসল্লির মৃত্যু :
ইজতেমা ময়দানে আরেক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের নাম আবদুস সাত্তার (৭০)। তিনি নেত্রকোনা সদর থানার কুনিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ইজতেমায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।