নিজস্ব প্রতিবেদক: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্ত্রী অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে দায়িত্ব দিয়েছেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামোয় এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়। এছাড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আদ্ব-দীন কর্তৃপক্ষ। এবং নির্বাহী পরিচালক পদে অধ্যাপক জামালুন্নেসার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শেখ মহিউদ্দিন প্রয়াত শিল্পপতি ও আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শেখ মহিউদ্দিনের স্ত্রী। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এখন পারিবারিকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত
এর আগে, গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তদন্তে নামে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবজাতকদের রাখা ওয়ার্ডটি চিকিৎসা মানদণ্ড অনুযায়ী যথাযথ ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, আলোর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত সুবিধার ঘাটতি ছিল। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি এবং তদারকিতেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ওই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলেও আদ-দ্বীনের অন্যান্য শাখার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বদ্ধ ঘরে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে আদ-দ্বীন হাসপাতালের শিশুরা। অবহেলা ছিল ডাক্তার, নার্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাই ও ছয় শিশুর মৃত্যুর দায় নিতেই হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে কেবল হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। কেউ অপরাধ করলে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।