নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়নি। গত দুটিও সুষ্ঠু হয়নি। ভবিষ্যতে তা হবে বলেও আশা করা যায় না। রোববার (৮ আক্টোবর) রাতে রাজধানী গুলশানের একটি হোটেলে প্রাক নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচন দলে এনডিএ, আইআরআই এবং মালয়েশিয়ার একজনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, রাজনীতিবিদদের কাছেই তার সমাধান আছে। তাদের দায়িত্ব এর সমাধান বের করা। দল, মত নির্বিশেষে শর্তহীন সংলাপ হওয়া প্রয়োজন। সংলাপের জন্য সংলাপ প্রয়োজন, এখানেই সংকটের সমাধান আছে। সংলাপের বিকল্প নেই। প্রতিনিধি দল বদিউল আলম মজুমদারকে কিছু বলেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা কোনো মন্তব্য করেনি। তারা শুধু জানতে চেয়েছে।
সুজন সম্পাদক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে বলছি না। তবে এমন একটি সরকার থাকতে হবে যারা নির্বাচনকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করবে। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ তাদের ভূমিকা পালন করতে পারবে। যেটি দলীয় সরকারের অধীনে কখনও হয়নি। রাজনীতিবিদরা সংলাপে বসে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান বের করবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের স্বার্থে তাদের সংলাপে বসা উচিত।
বদিউল আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচনী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েই কথা হয়েছে। আমাদের একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। ২০১৮ সালে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। এ নির্বাচন নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে। একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দরকার। কারণ প্রতি ৫ বছর পর পর আমরা এই সমস্যার সম্মুখীন হই। ৫২ বছরেও আমরা এই সমস্যার সমাধান বের করতে পারিনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পদ্ধতি বের করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বলতে আমরা বুঝি চয়েজ। বিকল্প থেকে বেছে নেওয়া। কিন্তু বিকল্পই যদি না থাকে, তবে নির্বাচন কী করে হবে? নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বলে তারা বিতর্কিত। তারা একটার পর একটা বিতর্কিত কাজ করেই যাচ্ছে। সম্প্রতি নিবন্ধন পাওয়া দুটি দল নিয়েও বিতর্ক আছে। গাইবান্ধা উপনির্বাচনে রাঘব বোয়ালদের ছাড় দিয়েছে তারা। ইভিএম নিয়ে তিনি বলেন, এখানে তো কাগজের কোনো কারবার নেই। তারা যে ফলাফল দিবে তাই মেনে নিতে হবে। এগুলো জনগণের জন্য মেনে নেওয়া কষ্টকর।