দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: তিউনিসিয়া থেকে আড়াই মাস পর দেশে এসেছে মাদারীপুরের পাঁচ যুবকের মরদেহ। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাকি তিনজনের মরদেহও এসেছে। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যায় নিজ নিজ বাড়িতে কফিন পৌঁছালে পরিবার, প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় শোকের মাতম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে মরদেহবাহী কফিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে রাজৈরের পাঁচটিসহ আটটি মরদেহবাহী কফিন স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তারা হলেন, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে সজীব কাজী (১৯), পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২২), সেনদিয়ার গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী (২২), উত্তরপাড়া গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (২৪) ও কবিরাজপুরের কেশরদিয়া গ্রামের কাওসার হোসেন (২২)।
এছাড়াও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের দাদন মিয়ার ছেলে রিফাদ (২১), ফতেয়পট্টি এলাকার মো. রাসেল (২০) ও গয়লাকান্দি গ্রামের পান্নু শেখের ছেলে ইসরুল কায়েস আপনের (২২) মরদেহ এসেছে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। প্রথমে তারা বিমানযোগে লিবিয়া পৌঁছান। পরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া থেকে দালালদের মাধ্যমে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। মাঝপথে তিউনিসিয়ার ভুমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন ধরে নৌকার তলা ফেটে যায়। পরে ভূমধ্যসাগরেই নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় তারা মারা যান।
মামুন শেখের বড় ভাই সজীব শেখ বলেন, আমার ভাইসহ আট যুবকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে এসেছে। একবার তিউনিসিয়ায় ময়নাতদন্ত হয়েছে দ্বিতীয়বার দেশে হলো। আমার ভাই এভাবে লাশ হয়ে দেশে ফিরবে সেটি কখনও কল্পনাও করিনি। তবুও শেষ দেখাটা দেখতে পেলাম, এটাই আমাদের সান্ত্বনা।