স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: অর্থ আত্মসাৎ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত মৈত্রী শিল্প ইউনিটের কারখানা ব্যবস্থাপক মো. মহসিন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মৈত্রী শিল্পের নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহবুব উর রহমান। তিনি জানান, ট্রাস্টি বোর্ডের নিয়মিত সভায় আলোচনার পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মহসিন আলীর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহসিন আলী দীর্ঘদিন ধরে দ্বৈত ভূমিকা পালন, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে তিনি কর্মচারীদের উসকানি দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য গোপন এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।
২০২৩–২৪ ও ২০২৪–২৫ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভ্যাট ও ট্যাক্স না আদায়, পণ্য বুঝে না নিয়েই চূড়ান্ত বিল পরিশোধ এবং ১ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ৬৬৭ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম হয়েছে।
অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সংঘর্ষ ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়। এমনকি বিশেষ অডিট কার্যক্রমে বাধা দিতে মহসিন আলী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে গত ২০ অক্টোবর থেকে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে মৈত্রী শিল্পের চাকরি বিধি (সংশোধিত), ২০০৫-এর ৫৮ বিধি অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকালীন সময়ে মহসিন আলী বিধিমোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন। সরকারি স্বার্থে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে, মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অডিট তদন্ত শেষে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।