আব্দুল কাদের, টঙ্গী:: টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা আজ শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (২ডিসেম্বর) এই জোড় ইজতেমা শেষ হবে। আজ ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুম্মার জামায়াত। এতে গাজীপুরসহ আশপাশ এলাকার মুসল্লীরা জুম্মাার জামায়াতে অংশগ্রহণ করেন। এই জোড় ইজতেমার প্রথম দিনে ১৭ দেশের ৪৩৬ বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। জুম্মার নামাজের ইমামতি করেন বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।
শুক্রবার বাদ ফজর সম্মিলিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আম বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। কারগুজারি করেন দিল্লির মাওলানা আব্দুর রহমান। বাদ জুমা বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক, বাদ আছর পাকিস্তানের মাওলানা আহমদ বাটলা, বাদ মাগরিব দিল্লির মাওলানা আব্দুর রহমান বয়ান করেন।
আয়োজকরা জানান, শুরায়ে নেজামের পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমায় দেশের চিল্লাধারী মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ১৭টি দেশের ৪৩৬ জন বিদেশি মেহমান ময়দানে এসেছেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে ৩০৮ জন, ভারত থেকে ৭০ জন, কিরগিজস্তান থেকে ১০ জন, কানাডা থেকে ৯ জন, মিয়ানমার থেকে ৩ জন, ইয়েমেন থেকে ৪ জন, চীন থেকে ১ জন, সৌদি আরব থেকে ৬ জন, তিউনিসিয়া থেকে ১ জন, যুক্তরাজ্য থেকে ৭ জন, ইটালি থেকে ২ জন, নাইজার থেকে ১ জন, আফগানিস্তান থেকে ৬ জন, আমেরিকা থেকে ১ জন, জার্মানি থেকে ১ জন ও জাপান থেকে একজন মুসল্লি এসে ময়দানে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।
দুই মুসল্লীর মৃত্যু:
পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমায় প্রথম দিনে দুই মুসল্লি মারা গেছেন। জুম্মার নামাজ চলাকালীন এক মুসল্লীর মৃত্যু হয় এবং দ্বিতীয় মুসল্লীর দিবাগত রাতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আয়োজক কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। নিহতরা হলেন— জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থানার বগারপাড় গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে চাঁন মিয়া (৬০) এবং নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার কাজীর তালুক গ্রামের মৃত সুলতানা আহমেদের ছেলে নুর আলম (৮০)। নিহতদের জানাজার নামাজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।