মো: জাফর আলী:: টঙ্গীর খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপার হলেও ইজারাদার ও নৌকার শ্রমিকরা নির্ধারিত ভাড়া মানছেন না।
স্থানীয়রা জানান, আগে খেয়াঘাটে ৪০-৫০টি ডিঙ্গি নৌকা চলাচল করত। সে সময় ভাড়া ছিল ৩ থেকে পাঁচ টাকা। তবে বর্তমানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এটি বাৎসরিক ইজারা দিয়েছে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী পারাপারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২টাকা। কিন্তু কয়েকদিন এই ভাড়া কার্যকর থাকার পর এখন যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এক যাত্রী বলেন, আমি প্রতিদিন চার-পাঁচবার খেয়া পার হই। দুই মাস আগে শুনেছি ভাড়া ২টাকা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে বেশি নিচ্ছে। এতে আমরা ভীষণ ভোগান্তিতে পড়েছি। সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ভাড়া বাস্তবায়নে নজরদারি করছে না। এর ফলে প্রতিদিন যাত্রীদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
যাত্রীরা জানান, কয়েকটি নৌকার অবস্থা নাজুক। যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন। অনেক সময় একটি মাত্র নৌকাই খেয়াঘাটে পাওয়া যায়। তখন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী উঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়াও নৌকার মাঝিরা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেন। এতে অনেকে বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়।
খেয়াঘাটে কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা রাজু ও টিপু সরকার জানান, আমরা শুধু চাকরি করি। ইজারাদারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা আদায় করা হয়। এর বাইরে কিছু বলার নেই। তাদের দাবি প্রতি যাত্রী থেকে আদায়কৃত ১০ টাকার মধ্যে ৫ টাকা ইজারাদারের কাছে জমা দিতে হয় এবং বাকি ৫ টাকা নৌকা পরিচালনার খরচ হিসেবে রাখা হয়।