স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের টঙ্গীতে যত্রতত্র পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। উপজেলার চেরাগআলী, হোসেন মার্কেট, টঙ্গীবাজার, স্টেশনরোড, টিনএন্ডটি, মরকুন, বেক্সিমকো কারখানার রোড, বড়দেওড়া, সাতাইশ, খাঁপাড়া রোডের বিভিন্ন অলিগলি, হাটবাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ এলাকার বাসিন্দারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করে। টঙ্গীতে ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় বিভিন্নস্থানে ময়লার স্তুপ জমে রয়েছে ।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীবাজার থেকে গাজীপুরা পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে রয়েছে উন্মুক্ত স্থানে অনেকগুলো ময়লার স্তুপ। এছাড়া টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে শিলমুন পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে তিনটি ময়লার স্তুপ। এসব স্থানে ময়লা ফেলায় মূল সড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন লাখো যাত্রী ও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
এদিকে টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কের স্টেশন রোড ধরে কিছু দূর পরপর খোলা জায়গায় বসতবাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এই সড়কের আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়ালসড়কের মুখে, মরকুন ও আমতলী এলাকায় মূল সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখা হয় ময়লা-আবর্জনা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ মানুষ নয় সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়েই কর্মীরা এসব জায়গায় ময়লা ফেলে রেখে যায়। এতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ।
টঙ্গী চেরাগআলী এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভের সাথে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে স্থানীয় ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নূরু (মৃত) দারুল উলূম মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ময়লা ডাস্টবিন তৈরি করেছিলেন। এতে দুর্গন্ধে ওই মাদ্রাসার শতশত কোমলমতি শিক্ষার্থী নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এখন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে শতশত গাড়ি ময়লা ফেলা হচ্ছে। এসব ময়লার ও দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
টঙ্গী মোল্লার গ্যারেজ এলাকার ব্যবসায়ী মিলন বলেন, ময়লা-আবর্জনা নিয়ে আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি। যেখানে-সেখানে ফেলে রাখায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, টঙ্গীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং জনগণকেও সচেতন হতে হবে।
পূবাইল মিরের বাজার জাপান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বাহার উদ্দিন ও লিয়ন জানান, আমাদের প্রতিনিয়ত টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এসড়কের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা স্তুপকারে জমা করে রাখে। পচাঁ দুর্গন্ধে এ সড়কে চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আফজালুর রহমান বলেন, পঁচা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ময়লারস্তুপে সৃষ্ট জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা এমনকি ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে । এছাড়াও ময়লা আর্বজনায় থাকা মশা-মাছি বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়ায়।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, টঙ্গীতে ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় কয়েকটি জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমরা ময়লা ফেলার জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা খুঁজছি। শিলমুন আকিজ বেকার্সের পাশে একটি ময়লা ফেলার জন্য শেড তৈরি করা হচ্ছে । একটি নির্দিষ্টস্থানে ময়লা ফেলতে পারলে মানুষের আর অসুবিধা হবে না।