July 4, 2026, 6:45 am

টঙ্গীতে গুম হওয়ার ৬ বছরেও খোঁজ মেলেনি যুবদলকর্মী সুজনের

Reporter Name
  • আপডেট Friday, August 29, 2025
  • 93 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার :: গাজীপুরে টঙ্গীতে গুম হওয়ার প্রায় ৬বছর পেরিয়ে গেলেই হদিস মিলছে না ৪৭নং ওয়ার্ড যুবদলকর্মী মো. সুজনের। গত ২০১৯ সালের ২৭মার্চ মধ্যরাতে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর থেকে অদ্যবধি তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি। তিনি কি জীবিত আছেন নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে তাও কেউ বলতে পারছেন না। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও তার কোন তথ্য দিতে পারছেন না।
স্বামীর খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্ত্রী। তিনি গুম কমিশন, র্যাব কার্যালয়, ডিজিএফআই’র কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়ে ঘুরছেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অন্ধকার দেখছেন সুজনের স্ত্রী নাজমা আক্তার। দুই সন্তান ঢাকা নৌবাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাফি ইসলাম ও টঙ্গী নতুন কুঁড়ি বিদ্যানিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রেদোয়ান ইসলামকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
গুম হওয়া সুজনের স্ত্রী নাজমা আক্তার কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, গত ২০১৯ সালের ২৭মার্চ রাত আড়াইটায় সাদা পোশাকে র্যাব পরিচয়ে বাসায় ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায় আমার স্বামীকে। এরপর থেকে থানা পুলিশ, র্যাব ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করতে গেলে মামলা তো নেয়নি বরং একটি জিডি পর্যন্ত করতে রাজি হয়নি । সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতির নির্দেশে থানা পুলিশ আইনী ব্যবস্থা নেয়নি। অসহায়ের মতো থানা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো আইনী সহায়তা পাইনি।
তিনি আরও জানান, একটি চক্র সুজনকে ছাড়িয়ে এনে দেওয়ার কথা বলে আমার সহায়-সম্বল বিক্রি করে ৬০লাখ টাকা দেই।  তারা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে  কিন্তু আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি এবং কোথায় আছে সেই তথ্যও দিতে পারেনি।
সুজনের ছেলে রাফি ও রেদোয়ান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বহুদিন হয় বাবাকে দেখি না। ঈদের সময় আমাদের সকল বন্ধুরা তাদের বাবার সাথে ঈদগাঁয়ে যায়, আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি। বাবা না থাকায় আমাদের মধ্যে একটি বিরাট শূণ্যতা বিরাজ করছে। বাবাকে ছাড়া আমরা নি:স্ব ও অসহায় অবস্থায় আছি। লেখাপড়ার খরচ যােগানো আমার মায়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে। বাবাকে জীবিত অথবা অন্তত বাবার লাশটি হলেও যেন আমরা ফেরত পাই। এদিকে ফেসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে  যায়। হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় পর আমরা মনে করেছিলাম  বাবাকে ফিরে পাবো। কিন্তু এখনও বাবার কোন খোঁজ পেলাম না। আমরা বাবার  সন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর