August 2, 2026, 1:14 pm

গাজীপুরে বহিষ্কৃত ৩ শিক্ষককে পুনঃনিয়োগের উদ্যোগে তোলপাড়

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, August 9, 2025
  • 120 জন দেখেছে

দেওয়ান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিবেদক:: গাজীপুরের কালিয়াকৈর সরকারি কলেজে ১৬ বছর আগে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষককে শিক্ষা ক্যাডারে পুনঃনিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গোপন রেখে এবং নানা প্রভাব খাটিয়ে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এডহক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ (বর্তমানে কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ) ২০১৬ সালে সরকারিকরণ হয়। এ প্রতিষ্ঠানের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক কিশোর কুমার সরকার এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা পারভীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে চাকরি হারান।
জাহাঙ্গীর আলম ১৯৯৭ সালে যোগদানের পর উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি আর কলেজে নিয়মিত আসেননি। ২০০৯ সালে বরখাস্ত এবং ২০১১ সালে এমপিও বাতিল করা হয়। কিশোর কুমার সরকার ২০০৪ সালে নিয়োগের পর মাত্র দুই মাস অনিয়মিতভাবে ক্লাস নেন। এমপিওভুক্ত হতে ব্যর্থ হয়ে নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফাতেমা পারভীন নিয়োগের পর থেকেই ক্লাসে উপস্থিত হননি এবং ২০১১ সালে তার প্রভাষক পদ বাতিল হয়।
সম্প্রতি তারা আদালতে মামলা করার পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য গোপন করে ‘জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক ও অ-শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০’ অনুযায়ী তাদের এডহক নিয়োগের জন্য সুপারিশ আনা হয়। গত ৩০ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদের অস্থায়ীভাবে আত্তীকৃত ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কলেজের বর্তমান জনবল কাঠামোয় উল্লিখিত পদগুলোতে ইতোমধ্যে বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক কর্মরত আছেন—ভূগোলে মো. হাবিবুল্লাহ এবং ইসলামের ইতিহাসে মোসা. রুবা ইয়াসমিন। কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুফিয়া বেগম জানান, এই কারণে তাদের যোগদান করানোর সুযোগ নেই এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও মাউশিকে জানানো হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা স্বাক্ষর জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে পদ সৃজন করেছিলেন। সাবেক অধ্যক্ষ মোবারক হোসেন বলেন, তারা বরখাস্ত হওয়ায় তাদের নাম বা পদ সৃজনের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি, তবুও প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নাম তোলেন। অপরদিকে, তিন শিক্ষক দাবি করেছেন, সব অভিযোগ মিথ্যা এবং তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহাম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত। দীর্ঘ ১৬ বছর শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থেকে বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষককে পুনঃনিয়োগের উদ্যোগ গাজীপুরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর