নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দিনাজপুর-৩ সদর আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির নির্বাহী সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তার এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া নিয়ে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু এর আগে দুপুর পৌনে ২টার সময় সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে বিকেলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বাধা প্রদান করেন।
জানা যায়, রোববার বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি অফিসে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিল শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, সিনিয়র সহসভাপতি মোবারক হোসেনসহ নেতাকর্মীরা বিকেল ৪টায় খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে জমা দেন। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর-৩ আসনে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে দলের চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দলের উচ্চ পর্যায় থেকে দিনাজপুর-৩ আসনে আমাকে মনোনয়ন ফরম তোলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আজ মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছি।’
চেয়ারপারসনের আসনে কেন ফরম তুললেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দলীয় চেইন অব কমান্ডের বাইরে আমরা কিছু বলতে পারি না। আমার কাছে চিঠি রয়েছে।’ তবে বিকেলে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা প্রদান করেন। এসময় তারা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, দলীয়ভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদেরকে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে কিছু জানাইনি এবং জমা দেওয়ার কথাও কিছু বলেনি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে আসার বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।