স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাশে জমে উঠেছে ময়লার স্তূপ। সেখানে রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার প্লে গ্রাউন্ড। স্থানীয় বাজারের পচা শাকসবজি, হোটেলের বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়ি ও গৃহস্থালির আবর্জনাসহ নানা ধরনের বর্জ্য সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বর্জ্য নাকের ডগায় নিয়ে ক্লাসে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আজমল ইসলাম বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে এসব ময়লা ফেলা হচ্ছে। কেন ফেলা হচ্ছে, তা জানি না। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া গরমও বেশি। অনেক সময় বমি বমি ভাব হয় এবং পাঠে মনোযোগ দেওয়া যায় না।
অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। দ্রুত এই ভাগাড় সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’
পথচারী মামুন মিয়া বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে গেছে। বিদ্যালয় ও সরকারি স্থাপনার পাশে কীভাবে এমন ভাগাড় তৈরি হলো, তা বোধগম্য নয়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ একদিন স্কুলে এসে দেখি বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসব ময়লা ফেলছে, তা এখনো জানা যায়নি। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই মর্মাহত। এ বিষয়ে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে এখনো জানানো হয়নি। খোঁজ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ময়লা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৮০ সালে নিবন্ধন পায়। বর্তমানে এখানে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।