মো: মুর্শিকুল আলম :: গাজীপুরের কাপাসিয়া গ্রীষ্মকালীন ফল আনারস স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। এই ফল দেশজুড়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। অন্যান্য মৌসুমি ফলকে টেক্কা দিয়ে বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে কাপাসিয়ার আনারস। উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের জলপাইতলা বাজার বর্তমানে কাপাসিয়ার আনারস বাজারে পরিণত হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই আশেপাশের গ্রামের চাষিরা ভ্যানগাড়ি, অটোরিকশা, সাইকেল এবং মাথায় করে বাজারে আনারস নিয়ে আসেন। প্রতিদিন লোহাদি, বারাব, বীর উজলী, কেন্দুয়াব, বেলাশী, গিয়াসপুর, ডুমদিয়া, বড়দিয়া ও নরসিংহপুর অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ আনারস এই বাজারে আসে। স্থানীয় আড়ৎদারদের পাশাপাশি রাজধানীসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররাও এখানে ভিড় করেন। বাজারজুড়ে প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার পিস আনারস। দাম নির্ভর করে আনারসের আকারের ওপর। বড় আনারস প্রতিপিস ৩৫/৪০ টাকা, মাঝারি ১৫/২০ টাকা ও ছোট আকারের আনারস ৭/১০ টাকা করে বিক্রি হয়। ৪০ থেকে ৪৫ জন আড়ৎদার প্রতিদিন এই বাজারে বেচাবিক্রিতে অংশ নেন।
কালীগঞ্জের আড়তদার তৈয়বুর রহমান বলেন, এই বছর আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। আমরা দুই মাস ধরে প্রতিদিন আনারস বিক্রি করছি। কাপাসিয়ার আনারসের স্বাদ-গন্ধ এতটাই ভালো যে ক্রেতারা খুব সন্তুষ্ট। ঢাকা থেকে আসা ক্রেতা হৃদয় বলেন, জলপাইতলা বাজারে দাম সহনীয়, আনারসের মানও অসাধারণ। প্রতিদিন সকালে চলে আসি আনারস কিনতে।
বিক্রেতা ফরিদ মিয়া বলেন, আনারস সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় বাজারে আনার আগেই আনারস নষ্ট হয়ে যায়। কোল্ড স্টোরেজ থাকলে বড় ক্ষতি থেকে বাঁচা যেত।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, কাপাসিয়ার আনারস হতে পারে দেশের শীর্ষ কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্পদ। তবে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন কোল্ড স্টোরেজ, আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও চাষিদের ঋণ ও সহায়তা কর্মসূচি দরকার।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন কুমার বসাক বাসসকে বলেন, চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ৪৫০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন।