দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে গত ২৫ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পোশাক, নথিপত্রসহ সকল সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে সব হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শীতজুড়ে ভোগান্তি বাড়তে থাকায় দুর্যোগে পড়া মানুষগুলো মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় ছিল। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)। আজ শনিবার গুলশান টিএন্ডটি মাঠে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ৫০০ কম্বল বিতরণ করে আনসার-ভিডিপি। শীতার্ত মানুষদের উষ্ণতার সহায়তা দিতে এই কম্বল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনসার-ভিডিপির উপমহাপরিচালক (অপারেশন্স) সাইফুল্লাহ রাসেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো মানুষের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা লাঘব করাই আমাদের লক্ষ্য। শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। এমন সহমর্মিতামূলক কাজ সমাজে সহযোগিতা ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এর আগে ২৮ নভেম্বর কড়াইল বস্তির ভেতরে জরুরি মানবিক সেবাকেন্দ্র চালু করা হয় আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায়। ঢাকা মহানগর আনসারের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গনী সেবাকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন।
সেবাকেন্দ্রটি প্রতিদিন দুই বেলা প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহ করছে, যা পাঁচ দিন ধরে অব্যাহত থাকবে। এতে আগুনে সব হারানো পরিবারগুলো অন্তত ক্ষুধার কষ্ট থেকে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে।
মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের স্থায়ী অঙ্গীকার। সংকটময় সময়ে সহায়তা করা নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। আজকের কর্মসূচি তাদের জীবনে সাময়িক স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করি।
এদিকে কম্বল ও খাদ্য সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। দ্রুত সহায়তা আমাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নতুন শক্তি যোগাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও প্রবীণদের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে তারা এবং এ ধরনের সেবা অব্যাহত থাকবে।