নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিগত সময় বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী হরতাল অবরোধ কর্মসূচিতে সকল পরিবহন বন্ধ থাকলেও এনা পরিবহণের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে পরিবহণ চালু রেখেছেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা নির্দেশে এনায়েত উল্যাহ পুরো পরিবহণ সেক্টর জিম্মি করে রেখেছিলেন। বিরোধীদলের হরতাল অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করলেই এনা পরিবহণের মালিক এনায়েত উল্যাহ সাথে সাথে বলেন, জনবিরোধী এ হরতালে মালিক-শ্রমিকরা কখনও সাড়া দেবে না, ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখান করেছে। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনিও আত্মগোপনে চলে গেছে।
অপরদিকে এনা পরিবহণ মহাসড়কে চলাচলের জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে আতাত করে নামধারী কিছু বিএনপি নেতারা মহাসড়কে চলাচলের জন্য পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি হাইকমন্ডের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ যদি দলের দুর্নাম ছড়ায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু নামধারী কিছু বিএনপি নেতাদের কর্মকান্ডে নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, নামধারী কিছু বিএনপি নেতা আছেন যারা আওয়ামীলী নেতাকর্মীদের সাথে আতাত করে দালালি করছে। এইসব দালালদের যতদিন সংস্কার না করা হবে ততদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ঠিক হবে না। নামধারী এইসব বিএনপি নেতারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে গোপনে টাকা নিয়ে তাদেরকে পুর্নবাসনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নামধারী এইসব বিএনপি নেতারা যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে তখন বিএনপির নাম ব্যবহার করে, আবার যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তখন আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে চলে। এইসব সুবিধাবীদের কারণে আজ দলের এই অবস্থা। আমরা মনে করছি বিএনপি হাইকমান্ড তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।
অপরদিকে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, তার স্ত্রী মিসেস নার্গিস সামসাদ, ছেলে রিদওয়ানুল আশিক নিলয়, মেয়ে চামশে জাহান নিশি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে থাকা ১৯০টি গাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিন আদালতে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে রেজিস্ট্রেশনযুক্ত যানবাহন/মোটরযানগুলো জব্দ করার জন্য আবেদন করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান।
ওই আবেদনে বলা হয়, খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগটি অনুসন্ধানে টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগটি অনুসন্ধানকালে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত যানবাহন/মোটরযানগুলোর তথ্য পাওয়া যায়। এসব রেজিস্ট্রেশনভুক্ত যানবাহন মোটরযানগুলো হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগটি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রেজিস্ট্রেশনযুক্ত যানবাহন মোটরযানগুলো জব্দ করা আবশ্যক।