ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি:: ‘এক বোরো ধানের ফসল দিয়াই আমাদের সারা বছরের খোরাকি (খাবারের চাল) ওঠে। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা মেঘে (বৃষ্টিতে) সব বোরো ধানের ক্ষেত এহন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমাদের ৪৫ কাঠা বোরো ধানের জমির ওপর দিয়ে যাচ্ছে পানির স্রোত। মনে হচ্ছে, এসব জমির ধান আর ঘরে তুলতে পারবো না। এহন আমরা সারা বছর খাইয়্যাম কি?’
এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বিল খেরুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ (৬০) ও আব্দুস ছাত্তার (৬৫)। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধানের জমির পাশে বিষণ্ণ মনে বসে ধানক্ষেত দেখছিলেন একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম (৫৫) ও সিদ্দিকুর রহমান (৪০)।
ভারী কণ্ঠে তারা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বছরে একটা ফসলেই হয়, তা হলো বোরোধানের আবাদ। এই এক ফসলের ওপরেই আমাদের সারা বছরের খাবার ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের আর্থিক যোগান নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ভারি বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সারা বছর কীভাবে চলবো তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। যদি সরকার থেকে কোন আর্থিক সুবিধা ও ঋণের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’
কৃষক আল-আমিন, সাইফুল ইসলাম ও আজিজুল হক বলেন, ‘বিল খেরুয়া বিলের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। যেকারণে বৃষ্টির পানিতে শত শত একর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। বিল খেরুয়ার সংযোগ খালটি খনন করা হলে জলাবদ্ধ নিরসন হবে। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল সুরক্ষা পাবে। তাই আমরা দ্রুত খালটি খননের দাবি জানাচ্ছি।’
শুধু রাজিবপুর ইউনিয়নেই নয়, উপজেলার উচাখিলা, সরিষা ও আঠারবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব অঞ্চলেরও মূল কারণ জলাবদ্ধতা, তারাও খাল খননের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। যার মধ্যে ৮০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে এলাকার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
এদিকে, ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে উজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, যাদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আজাদ সুমি বলেন, ‘প্রায় ৮০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পানিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি দুই-একদিনের মধ্য এসব জমির পানি নেমে যায়, তাহলে ধানের কোন ক্ষতি হবে না। এছাড়া, প্রত্যেক এলাকায় আমাদের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’