July 21, 2026, 7:45 pm

ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার হুমকি তেহরানের

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, January 14, 2026
  • 168 জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান। বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর আজ বুধবার রয়টার্সকে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন। একটি অধিকার সংস্থার হিসাব অনুসারে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দেশ মনে করছে যে ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপের পরিধি ও সময় এখনো অস্পষ্ট। ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে তেহরান আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত এই অঞ্চলের সব দেশকে জানিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালানো হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ইসরায়েলের একটি সূত্র বলেছে, মঙ্গলবার রাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন বা মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন যে ইরান যদি দেশটির বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে তিনি ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবেন। তিনি বলেন, ‘তারা যদি তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে আপনারা বড় কিছু দেখতে পাবেন।
ট্রাম্প ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত বলেননি।বাইরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর, কাতারে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত বছর পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন হামলার জবাবে ইরান আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং আরাগচি তুরস্ক ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। আরাগচি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমানে ‘শান্তি বিরাজ করছে’ এবং ইরান যেকোনো দেশি হস্তক্ষেপ থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
ইরানে ইন্টারনেট–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানকার তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এইচআরএএনএ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারি কর্মী নিহত হওয়ার তথ্য সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর